
রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। ফলে প্রায় দুই লাখ মানুষ গুরুতর অসুস্থ হলে নদীপথ পাড়ি দিয়ে যেতে বাধ্য হন গলাচিপা কিংবা পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর ধরে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৫০ শয্যার হাসপাতালটির কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
৩৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নদীবেষ্টিত এ উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা সীমিত কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ফলে জটিল ও গুরুতর রোগে আক্রান্তদের পাশাপাশি প্রসূতি, নবজাতক, শিশু ও বয়স্কদেরকে জরুরি চিকিৎসার জন্য পারি দিতে হয় নদী। যেতে হয় গলাচিপা কিংবা পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে। বৈরী আবহাওয়া ও নৌযান সঙ্কটে অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
জানা যায়, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার পাঁচ একর জমিতে চারতলা ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়। পৃথক দু’টি লটে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মেসার্স একেএপিসিএমএই জয়েন্ট ভেঞ্চার’ নির্মাণকাজ শুরু করে। এক বছর মেয়াদি প্রকল্পে প্রথম লটের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় লটের প্রায় ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা থেমে যায়।
সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের দেয়ালে পড়েছে শ্যাওলা, চার পাশে গজিয়েছে ঝোপঝাড় ও আগাছা। সেখানে এখন নিত্য গরু-ছাগলের বিচরণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এ অর্ধনির্মিত ভবন এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ে।
স্থানীয় বেল্লাল খান বলেন, কয়েক দিন আগে তার ভাই স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে গলাচিপায় নেয়ার পথে মাঝনদীতে মারা যান। রাঙ্গাবালীতে হাসপাতাল থাকলে হয়তো দ্রুত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হতো। হয়তো বাঁচানো যেত তাকে। হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি।
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা: ফিরোজ মাহমুদ বলেন, সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সেবা দেয়া হলেও হৃদরোগে আক্রান্ত, প্রসূতি কিংবা সঙ্কটাপন্ন রোগীদের দ্রুত অন্যত্র পাঠাতে হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল থাকলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না তাদের।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের কাজ আবার শুরু করতে পৃথক দু’টি লটে নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করত হবে।
সিভিল সার্জন ডা: খালেদুর রহমান মিয়া জানান, ২০২৪ সালে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে নতুন করে ডিপিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। এটি শেষ হলে নির্মাণকাজ আবার শুরু হবে।







