An armed attack and vandalism took place at an opponent's house in Begumganj due to a land dispute.
জমির সীমানার বিরোধে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অস্ত্র হাতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে ছবি: নয়া দিগন্ত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় মো: ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০) নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির বাসিন্দা দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি।

মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে, মজিব উল্যাহর পক্ষ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে শরিফ উল্যাহর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক যুবক বাড়ির সামনে থাকা লোকজনের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন। তার পাশে থাকা কয়েকজনকে লাঠি হাতে হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রধারী যুবককে উদ্দেশ করে গুলি করার নির্দেশ দিতে দেখা যায়। হামলাকারীদের কয়েকজন মুখোশ পরা ছিলেন। ভিডিওতে হামলার সময় বাড়ির ভেতর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যদের চিৎকারের আওয়াজ শোনা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অস্ত্রধারী ওই ব্যক্তি কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। তবে এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো: বাহরুল আলম সুমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। তাদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। 

এ ঘটনায় রাতে শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ বেগমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। 

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক ও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় অস্ত্র প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।