২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মাত্র ১৭ বছর বয়সে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। হাতকড়া ও দড়ি বেঁধে তাকে আদালতে হাজির করার ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মাত্র ১৭ বছর বয়সে গ্রেফতার হয়েছিলেন ফাইয়াজ। সংগৃহীত

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় গ্রেফতার হয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী হাসনাতুল ইসলাম ফাইয়াজ। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

Advertisement

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মাত্র ১৭ বছর বয়সে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। হাতকড়া ও দড়ি বেঁধে তাকে আদালতে হাজির করার ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফাইয়াজের জিপিএ-৫ পাওয়ার তথ্য জানা যায়। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নেন। কলেজের শিক্ষকরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিন হত্যা মামলায় ফাইয়াজকে আসামি করা হয়। ওই বছরের ২৪ জুলাই রাতে মাতুয়াইলের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আরো পড়ুন—২৪ বিধায়কের অনাস্থার মুখে কাশ্মির-সরকার, কিন্তু কেন?

গ্রেফতারের সময় ফাইয়াজের বয়স ছিল ১৭ বছর। ২৭ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করে তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত প্রথমে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে পরদিন জন্মনিবন্ধন ও এসএসসি সনদ দেখিয়ে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রমাণ দেয়া হয়। পরে শিশু আদালত রিমান্ড বাতিল করে তাকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তখন আদালতে হাজির করার সময় ফাইয়াজের হাতে হাতকড়া ও দড়ি বাঁধা ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে এভাবে আদালতে হাজির করায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শিশু অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে।

পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ওই হত্যা মামলার তদন্তে ফাইয়াজের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে তদন্তকারী সংস্থা। আদালত তদন্তের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন গ্রহণ করলে মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি।