নতুন মডেলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া
নতুন মডেলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সংগৃহীত ছবি

নিজেদের অস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এক নতুন মডেলের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একইসাথে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণের একটি মহড়াও পরিচালনা করেছে দেশটি। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে দফায় দফায় বেশ কিছু অস্ত্রের মহড়া চালায় উত্তর কোরিয়া। এসবের মধ্যে ছিল ক্লাস্টার বোমা, আক্রমণকারী ড্রোন, নিখুঁতভাবে নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম টর্পেডো এবং মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। তারই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার এ নতুন পরীক্ষা চালানো হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বুধবার জানায়, উত্তর কোরিয়ার সোন্দোক এলাকা থেকে জাপান সাগরের দিকে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি তারা শনাক্ত করেছে।

এদিকে, সিউল ও ওয়াশিংটনের প্রতি নিজেদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে পিয়ংইয়ং। ল্যান্ডমাইন-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক নতুন করে তলানিতে ঠেকেছে। অন্যদিকে, কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন চলতি সপ্তাহে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ফের আলোচনায় বসতে তার দেশের বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই।

সরকারি বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার কারিগরি দিক যাচাই করতেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

কেসিএনএ আরো জানায়, ‘পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির নতুন উপাদান এবং বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মাল্টিপল গাইডেড মোডের কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে।’ 

তবে নতুন উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও পিছু ধাওয়ার ক্ষমতার পাশাপাশি তথ্য প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রের নির্ভরযোগ্যতাও সফলভাবে প্রমাণ করেছে।

কেসিএনএ জানিয়েছে, বুধবার পূর্ব উত্তর কোরিয়ার একটি দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের উপদলও একটি আক্রমণের মহড়া সম্পন্ন করেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এই ইউনিটটি দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি কাল্পনিক বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দায়িত্ব নিখুঁতভাবে সম্পাদন করেছে।

কেসিএনএ জানায়, এই দু’টি অনুশীলনের মূল লক্ষ্য ছিল অস্ত্র ব্যবস্থাকে কারিগরিভাবে উচ্চমানে রাখা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত অস্ত্রের নির্ভরযোগ্যতা আরো বাড়ানো।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মতো উত্তর কোরিয়ার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কিন্তু জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর এক পুরোনো ইতিহাস রয়েছে উত্তর কোরিয়ার। শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই সাধারণত তারা এটি করে থাকে। চার বছর আগের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং দু’বছর আগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ও দেশটিকে একই ধরনের পরীক্ষা চালাতে দেখা গেছে।

সূত্র : বাসস