
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়ন, যৌথভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া। দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়্যব এরদোগান সিউলে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।
লি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক রক্তের বন্ধনে গড়ে ওঠা গভীর বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে প্রায় ২০ হাজার তুর্কি সেনা কোরীয়দের পক্ষে লড়াই করেছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ আজ যে স্বাধীনতা ও শান্তি ভোগ করছে, তাঁদের আত্মত্যাগের কাছে আমরা ঋণী।
তুরস্কে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ ভালোভাবে এগোচ্ছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নে সহযোগিতার জন্য দুই দেশ সমঝোতা স্মারক সই করেছে। প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তৃতীয় দেশের বাজারে দুই দেশের কোম্পানিগুলোর যৌথভাবে ব্যবসার সুযোগ তৈরির বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই নেতা। পাশাপাশি সামরিক জাহাজ নির্মাণেও সহযোগিতা বাড়বে।
গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার এটাই দু'দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য। বাণিজ্য ঘাটতি, আমদানি সীমাবদ্ধতা ও শুল্ক প্রক্রিয়ায় বিলম্বের সমস্যা সমাধানে কাজ করার কথা জানিয়েছেন লি। পাশাপাশি, দুই দেশের নাগরিকদের কাজের অনুমতি পাওয়ার জটিলতা নিরসনেও সহযোগিতা চলবে।
জীবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও খনিজ খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি এসকে প্লাজমার সহযোগিতায় তুরস্কে রক্তরস থেকে ওষুধ তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, হাইড্রোজেন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করতে গঠন করা হবে ‘দক্ষিণ কোরিয়া-তুরস্ক জ্বালানি রূপান্তর ফোরাম’।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত যোগাযোগপ্রযুক্তি ও নতুন উপকরণ নিয়ে যৌথ গবেষণার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমিটির বৈঠক হবে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা বহুমুখী করতেও যৌথ উদ্যোগ নেয়া হবে।
কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা। উত্তর কোরিয়াবিষয়ক দক্ষিণ কোরিয়ার নীতির প্রতি তুরস্কের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ, জি-২০ ও মিকটাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।
লি বলেন, বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও আস্থার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে। চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করে সহযোগিতার সুফল নিশ্চিত করতে এরদোয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন তিনি। দুই দেশ একসাথে আরো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








