প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জাপানি নারী
প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে জাপানি নারী। সংগৃহীত ছবি

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে এক জাপানি নারীকে হত্যার সন্দেহে এক মার্কিন মেরিন সেনাকে গ্রেফতারের এক সপ্তাহ পরও ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

Advertisement

তাদেরই একজন তাকাকো কাকাজু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ওকিনাওয়া থেকে মার্কিন সেনাদের চলে যাওয়া চান।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটিকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। একইসাথে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এই দ্বীপে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারো সামনে এসেছে।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে কাকাজু বলেন, ‘আমি আর এসব মেনে নিতে পারছি না। ওকিনাওয়ার আরো কত নারীকে এভাবে ভুগতে হবে? সবাই ক্ষুব্ধ।’

৫৫ বছর বয়সী এই গৃহিণী বলেন, ‘আমি জানি, যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রক্ষা করার কথা বলে। কিন্তু বিনিময়ে আমরা শুধু দুর্ভোগই পাচ্ছি। দয়া করে চলে যান।’

ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার কাছাকাছি একটি ব্যস্ত এলাকায় রৌদ্রোজ্জ্বল ছুটির দিনে পর্যটক ও সামরিক বাহিনীর সদস্য বলে মনে হওয়া মার্কিন নাগরিকদের সৈকত ও বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করতে দেখা যায়। বাইরে থেকে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক মনে হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

দ্বীপটিতে মার্কিন সেনাদের জড়িত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সেই ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ায় মোতায়েন এক মার্কিন মেরিন সেনাকে নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যার সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওই নারীর মানিব্যাগ চুরির অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত মেরিন সেনা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

২৩ বছর বয়সী ক্যাফেকর্মী আইরি হিয়ানে বলেন, ‘সত্যি বলতে, খবরটি শুনে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল—আবারো সেই একই ঘটনা!’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি তারা এখানে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের নিয়ম মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, আমরা যে একসাথে সামনে এগিয়ে যেতে পারব, তা বিশ্বাস করা কঠিন।’

তবে হিয়ানে স্বীকার করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানোও কঠিন। 
অন্য কয়েকজন বাসিন্দাও বলেছেন, স্থানীয় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কিন নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ।

ওকিনাওয়ার বার্ষিক মোট আয়ের প্রায় ৫ শতাংশ আসে সামরিক ঘাঁটিসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে। কারো কারো মতে, এসব ঘাঁটি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, জাপানের সংবিধানে শান্তিবাদী নীতি অনুসৃত হলেও সম্ভাব্য সামরিক হামলা প্রতিরোধে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে। জাপান সরকারও দ্বীপটিতে মার্কিন সেনাদের অবস্থান, প্রশিক্ষণ ও দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

ওকিনাওয়ায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও সর্বশেষ এ ঘটনায় স্থানীয়দের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নাহার বার মালিক স্টিফেন বাটলার বলেন, ‘যারা এখানে আছি ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে স্থানীয় সংস্কৃতি উপভোগ করতে চাই, তাদের সবার জন্যই ঘটনাটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর বুধবার মার্কিন সেনাদের ৪৮ ঘণ্টার জন্য মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হলে, তার ‘সাইডলাইনস’ নামের বারটির ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে বিদেশীদের সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন বাটলার।

তিনি বলেন, ‘আমি এখানে অনেক দিন ধরে আছি এবং আশপাশের অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকেও চিনি। এখানে সব সময়ই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে।’

তবে বাসিন্দা কাকাজুর ক্ষোভের মূল লক্ষ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীই। তিনি বলেন, ‘এটা ভীতিকর।’

এরপর কর্তৃপক্ষের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দয়া করে, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি, এসব বন্ধ করতে কিছু একটা করুন।’

সূত্র : বাসস