
উত্তর কোরিয়া দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। কোরীয় উপদ্বীপে একের পর এক সামরিক মহড়ার মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার কয়েক দিন পর এই পরীক্ষা চালানো হলো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছে, স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৩টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৬টা অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা।) ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনাটি শনাক্ত করা হয়। অস্ত্রটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বলে মনে হচ্ছে।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) বাইরে গিয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ স্বল্পপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বরও একই ধরনের একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই পরীক্ষা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলোর সরাসরি লঙ্ঘন।
শনিবার উত্তর কোরিয়া দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা বা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গৃহীত একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ছাড়া গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি নৌ মহড়ারও নিন্দা জানায় পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে সাথে নিয়ে ওই মহড়া ২৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুয়ামের কাছে পরিচালিত হয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং শুক্রবার অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক মহড়ার কারণে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা 'ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে'। একইসাথে তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করার পথে দেশের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।







