
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুলরহমান মোহাম্মদ আল-সাইয়িদ জয়লাভ করেছেন। তিনিই প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে বিজয় বক্তৃতার একটি বিশেষ অংশ।
নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়টায় আল-সাইয়িদ যখনই জয়ের সম্ভাবনার কথা বলতেন, তখনই বলতেন—“ইনশাআল্লাহ” অর্থাৎ “আল্লাহ চাইলে”। বিজয়ের রাতে তিনি মিশিগানের সমর্থকদের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বললেন—
“এখন পর্যন্ত আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন যে, এই নির্বাচনের ফলাফলের কথা যখনই উঠত, আমি সবসময় বলতাম ‘ইনশাআল্লাহ’ বা ‘আল্লাহ চাইলে’। কিন্তু আজ, আজ রাতে আমরা সেই ‘ইনশাআল্লাহ’-কে ‘আলহামদুলিল্লাহ’-তে পরিণত করতে পারি। যারা ডানপন্থী মহল থেকে আমাদের আক্রমণ করেন, তাদের জন্য বলছি—এর মানে শুধুই ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’।” সাধারণ ভাবে কোনো কাজে সফল হলে বা সুখবর শুনলে মুসলমানরা এ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন।
এই কথাগুলো শুনে হলভর্তি সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। একটি ধর্মীয় বাক্য দিয়েই তিনি তাঁর বিজয়ের আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন, আবার একইসঙ্গে বিরোধীদের তিরস্কারও করলেন।
আল-সাইয়িদের জয় শুধু একজন ব্যক্তির জয় নয়। এটি মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণার সময় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বহুবার আক্রমণ করা হয়েছে। অনেকে তাঁকে “জিহাদি” বা “মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য” বলে অভিযুক্ত করেছেন। তবুও তিনি মিশিগানের ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
তাঁর প্রচারণার মূল স্লোগান ছিল,“রাজনীতি থেকে টাকা হঠাও, মানুষের পকেটে টাকা দাও, সবার জন্য মেডিকেয়ার নিশ্চিত করো”। তিনি বারবার বলেছেন যে, কর্পোরেট অর্থের প্রভাবমুক্ত রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য।
বিজয় বক্তৃতায় তিনি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনারা দরজায় কড়া নাড়া দিয়েছেন, ফোন করেছেন, এক ডলার পাঠিয়েছেন এবং গণতন্ত্রে আপনাদের অংশ দিয়েছেন। আপনারা সবচেয়ে অসম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর বাজি ধরেছেন। এ জয় আপনাদেরই।”
আল-সাইয়িদের এই জয় অনেকের কাছেই আশা জাগিয়েছে। আবার অনেকে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তবে যা নিশ্চিত, তা হলো—একজন মুসলিম প্রার্থী “ইনশাআল্লাহ” বলে শুরু করা যাত্রা শেষ পর্যন্ত “আলহামদুলিল্লাহ” বলেই সম্পন্ন করেছেন।
মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে এই মুহূর্তটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








