অ্যামি অ্যাকটন
অ্যামি অ্যাকটন। সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত ভারতীয়-আমেরিকান বিবেক রামাস্বামী ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে অ্যাকটন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হলেন।

Advertisement

অ্যামি অ্যাকটন ৫১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন, অন্যদিকে বিবেক রামাস্বামী পেয়েছেন ৪৫ শতাংশেরও বেশি ভোট।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ওহাইওতে দেয়া বক্তব্যে রামাস্বামী বলেন, ‘এটি একটি কঠিন লড়াই ছিল। উভয় পক্ষের জন্যই এটি ছিল তিক্ত অভিজ্ঞতাপূর্ণ।‘

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ কৌশলবিদদের পরামর্শ পাওয়া সত্ত্বেও রামাস্বামী নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হওয়া রামাস্বামী এই নির্বাচনে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করেছিলেন।

এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, তিনি অন্য বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক এবং জেফরি ইয়াসের কাছ থেকেও কয়েক মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের কয়েক দিন আগে রামাস্বামী একটি বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। ওই বিজ্ঞাপনে অ্যামি অ্যাকটনের মা, ডোনা আর্থার, তার মেয়েকে ‘মিথ্যাবাদী‘ বলে অভিহিত করেন এবং ওহাইওবাসীদের কাছে অনুরোধ জানান যেন তারা তাকে ভোট না দেয়।

অ্যামি অ্যাকটন জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে মায়ের সাথে তার কোনো দেখা বা কথা হয়নি। 

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ছোটবেলায় তার সৎ বাবা তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। 

আদালতও তার সৎ বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু বিচারের মুখোমুখি না হয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে আর বিচারকার্য এগোয়নি। 

এই বিচারের ঘটনায় অ্যামির মা তার বিপক্ষে থাকেন, সৎ বাপের পক্ষ নেন! সন্তানদের অভিভাবকত্ব ছেড়ে দেন। 

নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলে বিবেক তার মাকে সামনে নিয়ে আসেন। এই ঘটনায় আমেরিকায় বেশ তোলপাড় হয়। বিবেকের নিজের দলের অনেকেও তার বিপক্ষে বিবৃতি দেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবেককে সমর্থন করেছিলেন।

এই নোংরামির ফলাফল ট্রাম্প আর বিবেক দু‘জনই পেয়েছেন। অ্যামি অ্যাক্টন নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র : দ্য হিন্দু