জাতিসংঘ, মহাসচিব, ভোট
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একট দৃশ্য ফাইল ছবি। সংগৃহীত

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় সপ্তম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গোপন ব্যালটে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ফাঁস হওয়া ফল অনুযায়ী, ১১টি সমর্থনমূলক ভোট পেয়ে প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি পেয়েছেন ৯টি সমর্থনমূলক ভোট।

Advertisement

চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া শনিবার (৩১ অক্টোবর) জানায়, অক্টোবর মাসে নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে গ্রিস। দেশটির জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আগলাইয়া বালতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সপ্তম দফার অনানুষ্ঠানিক ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ ভোটের ফল সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া সদস্যদেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাঁদের জানানো হবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকেও ভোট গ্রহণের বিষয়টি অবহিত করা হবে।

মহাসচিব পদপ্রার্থীদের বাছাইয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটকে বলা হয় ‘স্ট্র পোল’। এটি মূলত প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য নেয়া অনানুষ্ঠানিক ও গোপন ভোট। এর ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। এই ভোটের মধ্য দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে বেছে নিয়ে তাঁর নাম সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করে। পরে সাধারণ পরিষদ তাঁকে পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়।

ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিটি সদস্যের কাছে প্রত্যেক প্রার্থীর নাম লেখা একটি করে ব্যালট থাকে। সেখানে তিনটি বিকল্পের যেকোনো একটিতে মত দিতে হয়—‘সমর্থন’, ‘অসমর্থন’ অথবা ‘কোনো মত নেই’। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৯টি সমর্থনমূলক ভোট পেতে হবে। তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো একজনও তাঁকে অসমর্থন জানালে চলবে না।

গত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ দফার ভোটে স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যদের ভোট আলাদা করে চেনার জন্য ভিন্ন রঙের ব্যালট ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে নতুন একজন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়ায় সপ্তম দফায় আবারো সব সদস্যের জন্য একই ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিক ও জাতিসংঘে দেশটির সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি লানা নুসেইবেহ গত ২১ অক্টোবর মহাসচিব পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এর আগে ১৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল।

নুসেইবেহ ছাড়াও সপ্তম দফার ভোটে অংশ নেন ছয়জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন ইকুয়েডরের সাবেক মন্ত্রী ও কূটনীতিক ইভন এ-বাকি; জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা; আইএইএর বর্তমান মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি; কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (আঙ্কটাড) বর্তমান মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান; উগান্ডার সাবেক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ওলারা ওতুনু এবং জাতিসংঘে গায়ানার স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারোলিন রদ্রিগেজ বার্কেট।

ফাঁস হওয়া ফল অনুযায়ী, গ্রিনস্প্যান ১১টি সমর্থনমূলক ভোটের পাশাপাশি চারটি অসমর্থনমূলক ভোট পেয়েছেন। তাঁর পরেই রয়েছেন গ্রোসি। তিনি পেয়েছেন ৯টি সমর্থনমূলক ভোট, চারটি অসমর্থনমূলক ভোট এবং দুটি ‘কোনো মত নেই’ ভোট।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিনে শেষ হবে। তাঁর উত্তরসূরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।