
পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী ও সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার বিরুদ্ধে ইরান ও ইউক্রেনে চলমান সংঘাত সম্পর্কিত গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ ওঠার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, সিলভিয়া গোপন তথ্য ফাঁস করার জন্য পেন্টাগনের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক করতেন।
এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেয়া হলো, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে ইরানকে লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা শুরু হতে পারে।
এই উচ্চপর্যায়ের বরখাস্তের ঘটনাটি প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের নির্দেশে পরিচালিত কঠোর তদন্ত প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুতর পরিণতি। প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমে অননুমোদিত তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ টাস্ক ফোর্স এবং পলিগ্রাফ পরীক্ষার (মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা) ব্যবহার ক্রমশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা নথিপত্র পাচারের বিষয়ে একাধিক পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর সিলভিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্তের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে এ বিষয়ে সম্ভাব্য ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকস্মিক বরখাস্তের ঘটনা সামরিক নেতৃত্বের উচ্চপর্যায়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি প্রতিরক্ষা কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরে তথ্য নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
ইরান যুদ্ধ নবম মাসে পদার্পণ করার সাথে সাথে সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার জন্য হেগসেথ যে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছেন, তার অন্যতম আলোচিত পরিণতি হলো সিলভিয়ার এই বরখাস্তের ঘটনা।
হেগসেথের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে পেন্টাগনের একটি টাস্ক ফোর্স গঠন, যার লক্ষ্য হলো তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করা। এছাড়া এই তদন্তের অংশ হিসেবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর পলিগ্রাফ পরীক্ষার ব্যাপক ব্যবহারও এর অন্তর্ভুক্ত।
গত বছর তিনি একটি গণমাধ্যম নীতিমালা প্রবর্তন করেন, যা সংবাদ সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনি উদ্বেগের জন্ম দেয়। যারা এই নীতিমালায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাদের সাংবাদিকতার স্বীকৃতি (প্রেস ক্রেডেনশিয়াল) তিনি বাতিল করে দেন।
পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ছিল, এক মুহূর্তও অপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। তথ্য ফাঁসের ঘটনা এতটাই গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে সেক্রেটারি হেগসেথ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেন।’
সূত্র : দ্য নিউজ
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








