
মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার সময় শক্তিশালী হারিকেনে পরিণত হয়েছে সাইমন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, হারিকেনটি চার মাত্রার শক্তি অর্জন করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে অথবা রোববার দিনের শুরুতে এটি মেক্সিকোর উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য মেক্সিকোর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় সাইমনের শক্তি আরো বাড়তে পারে। এ সময় ঝড়টির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার হতে পারে।
এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি বলেছে, ‘হারিকেন সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।’
এদিকে আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়টির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে চলতি মৌসুমে একের পর এক শক্তিশালী হারিকেন সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়াব্যবস্থার প্রভাবে বাতাসের বিভিন্ন স্তরের গতিবেগ ও দিকের পার্থক্য কমে আসছে। এতে ঘূর্ণিঝড়গুলো আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছে।
সাইমনের কারণে মেক্সিকোর নৌবাহিনী দেশটির পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন জনবসতি থেকে প্রায় ১০০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে।
২০২৩ সালের হারিকেন লিডিয়ার কথা স্মরণ করে ৬৩ বছর বয়সী এলেনা গুলমাস বলেন, ‘তিন বছর আগে আমরা সবকিছু হারিয়েছিলাম। এখন আমি মনে করি, সবার আগে জীবন বাঁচানোই জরুরি।’
প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভায়ার্তায় শনিবার আকাশ মেঘলা থাকলেও সাগর তখনো তুলনামূলক শান্ত ছিল।
তবে আরো দক্ষিণে অবস্থিত আরেক পর্যটনকেন্দ্র আকাপুলকোতে সাইমনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ইতোমধ্যেই বন্যা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিশাল ঘোড়ার খুরের আকৃতির উপসাগরের তীরে অবস্থিত পুয়ের্তো ভায়ার্তায় বাসিন্দাদের মধ্যে হারিকেন নিয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক কম দেখা গেছে।
উপসাগরের বিশেষ ভৌগোলিক আকৃতির কারণে সেখানে হারিকেনের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।
দোকানমালিকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে বালুর বস্তা সাজিয়ে রেখেছেন ও দরজা-জানালা বন্ধ করে সুরক্ষিত করেছেন। তবে চারপাশে বড় ধরনের বিপর্যয় আসন্ন—এমন আতঙ্কের চিত্র খুব একটা দেখা যায়নি।
সমুদ্রসৈকতের পাশের সড়কে অবস্থিত একটি আসবাবপত্রের দোকানের মালিক পাউলিনা পেরেজ বলেন, ‘মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পাচ্ছে, পানি যদি অনেক উঁচুতে উঠে যায়—যেমনটা হারিকেন কেনার সময় হয়েছিল।’
২০০২ সালে আঘাত হানা হারিকেন কেনায় কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল।
পেরেজ তার দোকানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। তাতে লেখা, ‘সাইমন, তাড়াতাড়ি চলে যাও, শান্ত থাকো।’
অন্য একটি বোর্ডে কেউ স্প্রে রং দিয়ে লিখেছেন, ‘সাইমন বলছে : সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
জনপ্রিয় শিশুদের খেলা ‘সাইমন সেজ’-এর নামের সাথে মিল রেখে কথাটি লেখা হয়েছে।
সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে অবস্থিত নিজের ছোট হোটেলটি রক্ষায় বালুর বস্তা ভরছিলেন ৭২ বছর বয়সী ময়েসেস ভিয়াসেনিয়র। তিনি বলেন, ঝড় নিয়ে তিনি ‘কিছুটা উদ্বিগ্ন’।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








