রুশ তেল, দ্বন্দ্ব, জেলেনস্কি,নতুন মুখ, ট্রাম্প,
ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে নতুন তেল চুক্তিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্ক মারাত্মক রূপ নিয়েছে। প্রকাশ্যে জেলেনস্কির তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন ইউক্রেনের এখন এমন এক নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে প্রত্যাখাত করে জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি মূলতঃ যুদ্ধের মেয়াদ বাড়ানোর খাতেই বিনিয়োগ।

Advertisement
ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর মস্কোর এক তেল শোধনাগার থেকে উঠছে কালো ধোঁয়া।

 

মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) জানায়, ওয়াশিংটন ও মস্কোর পেট্রোলিয়াম চুক্তি ঘোষণার পর থেকেই কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে এই টানা পড়েন চরম রূপ ধারণ করে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ক্রমাগত ড্রোন হামলা বন্ধের জন্য বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও জেলেনস্কি তা তোয়াক্কা করেননি। মূলত এই হামলার কারণেই তেলের বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে হাত মেলাতে হয়েছে।

ঘোষিত চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টন এবং পরবর্তী মাসে আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল পাঠাতে রাজি হয়েছেন। তবে মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খরচ কমানোর এই কৌশল কতদূর সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতেই টান পড়েছে, ফলে চুক্তি অনুযায়ী মস্কো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে কি না—সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে, মিয়ামিতে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসেছিল, ঠিক তখনই ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতার ঘোষণাটি দেওয়া হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, এ হলো শক্তিশালী সহযোগীর পক্ষ থেকে এক 'দুর্বল সিদ্ধান্ত'। একই সময়ে একদিকে কিয়েভের প্রতিনিধিরা আলোচনা করছেন, আর অন্যদিকে ওয়াশিংটন ক্রেমলিনের সঙ্গে তেলের দর কষাকষি করছে—দৃশ্যটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক হিসেবে জানান তিনি।

অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি না মানা এবং বিশ্ব বাজারে সংকট তৈরি করার দায় ট্রাম্প একতরফাভাবে জেলেনস্কির ঘাড়েই চাপিয়েছেন। এমনকি যুদ্ধ সত্ত্বেও ইউক্রেনে নির্বাচনেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প, যদিও ইউক্রেনীয় সংবিধানে যুদ্ধকালীন সময়ে ভোট গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেনকে ড্রোন হামলা থেকে বিরত রাখতেই জেলেনস্কির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে; কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কিয়েভ সেই চাপে নতি স্বীকার করবে না বলেই স্পষ্ট।