
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সাথে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জানায়, ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এরদোগান বলেন, মহামারি, জ্বালানি সংকট, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও আঞ্চলিক সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—বিশ্বের বড় সংকটের সমাধান কয়েকটি রাজধানীর সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেয়ার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি কাঠামো এখনকার বিশ্বকে যথাযথভাবে তুলে ধরছে না। দরকার আরো কার্যকর, ন্যায়সংগত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিনিধিত্ব। তার ভাষায়, ‘সংস্কারের প্রয়োজনকে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেয়া জরুরি। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকতে হবে ভেটো সুবিধার বিলোপ।’
এরদোগান দীর্ঘদিন ধরে ‘বিশ্ব পাঁচের চেয়ে বড়’ স্লোগান দিয়ে জাতিসঙ্ঘ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, শুধু নতুন স্থায়ী সদস্য যোগ করলেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকার সমস্যা মিটবে না। কোনো দেশেরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত স্থায়ীভাবে আটকে দেয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়।
সাধারণ পরিষদের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব
এরদোগান নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের মধ্যে নতুন ভারসাম্যের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি স্থায়ী সদস্যবিহীন নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদে সদস্য নির্বাচনের কথা বলেছেন। পুনর্নির্বাচিত হতে হলে সদস্য দেশকে সাধারণ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের জবাবদিহি ও প্রতিনিধিত্ব সাধারণ পরিষদের কাছে বাড়াতে হবে। গত ২৫ বছরের পরিবর্তন দেখিয়েছে, কোনো ক্ষমতার ভারসাম্য বা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চিরস্থায়ী নয়। অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও কূটনীতিতে নতুন শক্তিকেন্দ্র তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো একই গতিতে বদলাতে পারেনি।
যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, অনিয়মিত অভিবাসন ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্থিতিশীল অর্থনীতি ও কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্ব বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি। এশিয়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে এবং আফ্রিকার দেশগুলো তাদের সম্ভাবনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেশি প্রতিনিধিত্ব চাইছে।
এরদোগান বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে সবসময় সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ইচ্ছা, স্থানীয় বাস্তবতা ও অভিন্ন স্বার্থভিত্তিক উদ্যোগ বেশি টেকসই ফল দিতে পারে।
তিনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, আয়বৈষম্য বেড়েছে এবং প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের অধিকার ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্ব ন্যায়সংগতভাবে ভাগ করতে হবে।
তুরস্ক ভেটো বিলোপ, নির্বাচিত সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশি গুরুত্ব এবং সাধারণ পরিষদের ভূমিকা শক্তিশালী করার উদ্যোগকে সমর্থন করবে বলে জানান এরদোগান। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন ও পরস্পরের সাথে যোগাযোগহীন জোট বাড়িয়ে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। বিভিন্ন অঞ্চলের অভিজ্ঞতা, সক্ষমতা ও সদিচ্ছাকে অভিন্ন ভিত্তিতে একত্র করতে হবে।








