ঢাকায় সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ১৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভা
ঢাকায় সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ১৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নয়া দিগন্ত

জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ও আন্তঃসীমান্ত রোগবালাইয়ের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কৃষি সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি বিনিময় এবং জলবায়ু সহনশীল উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

Advertisement

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকায় সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ১৮তম পরিচালনা পর্ষদের সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা সরাসরি এবং ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন ও নেপালের প্রতিনিধি শবনাম শিবাকোটি উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম এবং কাঠমান্ডুতে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার।

সভাপতির বক্তব্যে শবনাম শিবাকোটি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে খাদ্য, পশুখাদ্য ও আঁশজাতীয় পণ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত আঞ্চলিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কৃষিসংক্রান্ত অনেক সমস্যা অভিন্ন। এসব সমস্যা সমাধানে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সার্ক কৃষি কেন্দ্রকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সচিব মো. সেলিম খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য গতিশীল ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে।

তিনি আন্তঃসীমান্ত উদ্ভিদ ও প্রাণীর রোগবালাইসহ অভিন্ন কৃষি সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জ্ঞান বিনিময় ও যৌথভাবে সমাধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই ও সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথি বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম বলেন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন কৃষি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। কৃষি উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ কমানো ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। কৃষিজমির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্যনিরাপত্তা সুরক্ষায় টেকসই কৃষিচর্চা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. গোলাম মাহবুব সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কৃষি সহযোগিতা জোরদারে কেন্দ্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি যৌথ গবেষণা, জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃষিপ্রযুক্তি ও উত্তম কৃষিচর্চার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে