'ভারতে কখনো না বলতে নেই' : রাজনীতিতে নামা প্রসঙ্গে সিজেপি

ভারতে ৭৫০ থেকে ৮০০ রাজনৈতিক দল থাকার পরও তারা যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না। ফলে রাজপথে থেকে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করাই তাদের বর্তমান এজেন্ডা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস
আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস |সংগৃহীত

সরাসরি রাজনীতিতে কি নামবেন? প্রশ্নে একদম স্পষ্ট জবাব দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা—'ভারতে কোনো কিছুতেই কখনো না বলতে নেই।' নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে মাসব্যাপী আন্দোলন এবং দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এনডিটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তারা।

এনডিটিভি রোববার (২৬ জুলাই) জানিয়েছে, সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা তাদের জানান, আপাতত তার লক্ষ্য বাড়ি ফিরে একটু ঘুমানো, বিশ্রাম নেয়া ও পরিবারের সাথে সময় কাটানো। তবে রাজনৈতিক জীবনের পথ পুরোপুরি বন্ধ করছেন কি না, তা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, ভারতে ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই নাকচ করা যায় না।

অন্যদিকে সিজেপির আরেক মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, এই মুহূর্তেই তাদের মূল লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গ রাজনীতি নয়। তারা আন্দোলনকে একেবারে মাঠপর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। সৌরভ দাসের বক্তব্য, ভারতে ৭৫০ থেকে ৮০০ রাজনৈতিক দল থাকার পরও তারা যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না। ফলে রাজপথে থেকে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করাই তাদের বর্তমান এজেন্ডা।

আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পরেই এনডিটিভির মুখোমুখি হন সিজেপির এই মুখপাত্ররা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নরেন্দ্র মোদির জমানায় কোনো জনবিক্ষোভের কারণে এটি কোনো দ্বিতীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা। এর আগে ২০১৮ সালে অনুরূপ পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর।

কেন সরকার এই দাবি মানতে ৩০ দিন সময় নিল—এমন প্রশ্নে রাঙ্কা বলেন, 'এ প্রশ্নটি সরকারের কাছেই করা উচিত। আমরা সবাই শিক্ষিত ও পেশাদার মানুষ, পেশাদার আন্দোলনকারী নই। দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার মিলেছে।'

গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও যোগ দিয়েছিলেন। টানা আন্দোলনের পর অবশেষে বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি মেনে নেয় কেন্দ্র।