বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ মিঠাপুকুরবাসী

আকাশে মেষ-বৃষ্টি দেখা গেলেই অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়। এমনও দেখা যায় কোনো কোনো গ্রামে দুই থেকে তিন দিনেও বিদ্যুৎ আসে না।

মিঠাপুকুর (রংপুর) সংবাদদাতা

Location :

Mithapukur
শঠিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস
শঠিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস |সংগৃহীত

বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ রংপরের মিঠাপুকুর উপজেলাবাসী। আকাশে মেঘ জমলেই চলে যায় বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ যায় কিন্তু কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। দেখা যায় কোনো কোনো গ্রামে দুই থেকে তিন দিনেও বিদ্যুৎ আসে না। যতক্ষণ মেঘ-বৃষ্টি থাকে, ততোক্ষণ বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এর বাইরেও ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয় তো রয়েছেই।

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক এক লাখ ৩০ হাজার। তিনটি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছেন রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিম্নমানের বিদ্যুৎ সামগ্রী ব্যবহার করার ফলে একটু বাতাস বা ঝড়ো হাওয়া হলে তারগুলো ছিড়ে যায়। আবার রোদের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ওইসব তার গলে যায়। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ চলে গেলে খবর নেয়ার জন্য রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ফোন করলে তারা রিসিভ করেন না অথবা তাদের ফোনগুলো বিজি করে রাখেন। এমনি অভিযোগও রয়েছে গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ না থাকার জন্য কোনো সচেতনমূলক মাইকিং বা প্রচার প্রচারণা করেন না তারা।

এদিকে শঠিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, বিদ্যুতের ভোগান্তির জন্য কখনো লোডশেডিং, কখনো সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি, কখনো গাছ কাটা আবার কখনো ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যা হয়ে থাকে। ফলে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে।

মিঠাপুকুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত সোমবার ও মঙ্গলবার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার আসে একবার যায়। এ দু’দিনে বিদ্যুৎ অন্তত ১৫ থেকে ১৬ বার আসা-যাওয়া করেছে। কি করে ব্যবসা করব? আমাদের অনলাইনের ব্যবসা বিদ্যুৎ ছাড়া এক মুহূর্তও চলে না।’

ময়েনপুর গ্রামের ব্যাংকার তুহিন বলেন, ‘ ঢাকা থেকে ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি আসছি। বাড়িতে দেখি দু’দিন ধরে এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দেশে এতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। আর মিঠাপুকুরে দেখি বিদ্যুৎ আসে-যায়।’

এ ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘরের ইলেকট্রনিক পণ্য নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিক্ষার্থীরা।

শঠিবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম মো: আবদুল হান্নান বলেন, ‘আকাশে বিদ্যুৎ চমকালে লাইন পড়ে যায়। এর আগে না। পল্লী বিদ্যুতের সরঞ্জামাদিগুলো নিম্নমানের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে দুই জেলার বিদ্যুৎ চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে রংপুর থেকে লাইন চালু করি।’