বিরিয়ানি, পূজা
ভারতে মুসলিমদের প্রতি ধারাবাহিক বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। সংগৃহীত

‘পূজায় বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে। হিন্দু দোকান থেকে কিনুন পূজা সামগ্রী।’ এরকম লেখা পোস্টারে ছেয়ে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহর। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এমন সাম্প্রদায়িক উদ্যোগে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

Advertisement

রোববার (১১ অক্টোরব) সংবাদ প্রতিদিন জানায়, এদিন সকাল থেকেই শহরের নানা প্রান্তে এমন বিতর্কিত পোস্টার দেখা যায়। 

কিছু পোস্টারে লেখা, ‘বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।’ আবার কিছু পোস্টারে লেখা, ‘চলুন এবার পূজায় পূজা সামগ্রী হিন্দু দোকান থেকেই কেনাকাটি করুন।’

এই পোস্টারগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় তাদের বসবাস। কোনোদিন তারা এমন পোস্টার দেখেননি। এই প্রথমবার এমন পোস্টার দেখে বেশ অবাকই হয়েছেন তারা। 

তাদের অনেকে বলছেন, ‘এভাবে কাউকে জোর করা উচিত নয়। যার যে দোকান থেকে জিনিস কেনার ইচ্ছা হবে, সেখান থেকেই কিনবে। এরকমক নির্দিষ্ট করা ঠিক নয়।’ 

এই পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিলিগুড়ির সাবেক মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তাই সেখানে এমন পোস্টার সত্যিই ভাবা যায় না। সাধারণ মানুষ দেখুক। তারাই ভাবুক।’
 
শিলিগুড়ির সাবেক সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যও এই পোস্টারের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কাজই ঘৃণা ছড়ানো। ধর্মে ধর্মে বিভেদ তৈরি করা। জঘন্যতম রাজনীতি। কে কোথা থেকে কী কিনবেন তা কেউ বেঁধে দিতে পারেন না। শিলিগুড়িতে মারোয়ারি, নেপালিও থাকেন। কেউ যদি বলেন- মারোয়ারি, নেপালির দোকান থেকে কিনবেন না। তাহলে শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের কী হবে।’

তবে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এই কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন বিজেপি জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘হিন্দু সনাতনী রীতি অনুযায়ী হালাল করা খাবার খাওয়া যায় না। ধর্ম তো সংস্কৃতিও বটে। তাই না খাওয়াই উচিত।’

মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের দাবি, ‘মাদক থেকে অনলাইন প্রতারণা সব কিছু নিয়েই সচেতনতা বাড়াতে পোস্টার দেয়া হয়েছে। অযথা আলাদা করে শুধুমাত্র হিন্দু দোকানির পোস্টার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।’