রাহুল গান্ধী ও থালাপতি বিজয়
রাহুল গান্ধী ও থালাপতি বিজয়ের সাক্ষাৎ। এনডিটিভি

ক্যাপুচিনো, তিরামিসু, কুকিজ আর তার সাথে কিছুটা রাজনীতি—শনিবার চেন্নাই সাক্ষী হলো বন্ধুত্ব ও রাজনৈতিক রসায়নের এক চমৎকার মেলবন্ধনের। ভারতের কেন্দ্রীয় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের সভাপতি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) এদিন কিছুটা সময় একসাথে কাটালেন।

Advertisement

ক্যামেরার লেন্সের জন্য দিনটি ছিল দারুণ এক সুযোগ। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার মতো বেশ কিছু মুহূর্তও তৈরি হলো।

শহরের উপকণ্ঠে নীলাঙ্কারাইয়ে নিজের বাসভবনের প্রবেশপথে হাসিমুখে রাহুল গান্ধীকে স্বাগত জানান বিজয়। সেখানে তাদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক চলে। দুই নেতা রাজনীতির বিষয়ে আলোচনা করলেও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে তাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই সবার নজর কাড়ে।

চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত নীলাঙ্কারাই একটি অভিজাত ও অপেক্ষাকৃত শান্ত এলাকা, যা ইস্ট কোস্ট রোডের ধারে সমুদ্রসৈকতের কাছেই অবস্থিত। এখানেই দিনের রাজনৈতিক রসায়নের সূচনা হয়। এরপর দুই নেতা তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডা চালিয়ে নিয়ে যান কাছের একটি ক্যাফেতে।

আর ঠিক তখনই এলো সেই ক্যাপুচিনো ও তিরামিসু উপভোগের মুহূর্ত।

জানা গেছে, তারা ক্যাপুচিনো, তিরামিসু ও কুকিজের অর্ডার দিয়েছিলেন। এর ফলে একটি সাধারণ রাজনৈতিক বৈঠক যেন এক ঘরোয়া ক্যাফে-আড্ডায় পরিণত হলো। উৎসুক জনতা তাদের ঘিরে ধরলে রাহুল ও বিজয় ভিড়ের মাঝে মিশে যান। ভাগ্যবান কয়েকজন এই দুই নেতার সাথে সেলফি তোলার সুযোগও পান, আর ক্যামেরার নজর এড়ায়নি কোনো কিছুই।

ক্যাফেতে সময় কাটানোর পর রাহুল গান্ধী শহরের একটি হোটেলের উদ্দেশে রওনা হন।

তিনি এখন চেন্নাইতে রয়েছেন তার যুব-সংযোগ কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’র সর্বশেষ আয়োজনে অংশ নিতে। শনিবার সন্ধ্যায় বিশাল আইল্যান্ড গ্রাউন্ডসে এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ু জুড়ে ছড়িয়ে দেয়া ওয়েবসাইট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে এক লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির জন্য নাম নথিভুক্ত করেছে।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় (হাং অ্যাসেম্বলি) কংগ্রেস ও টিভিকে জোট গড়ে তোলে। সেই নির্বাচনে বিজয়ের দলই বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছিল। টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেয়ার লক্ষ্যে কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকের সাথে জোট ভেঙে বেরিয়ে আসে। 

শনিবারের বৈঠকটি যতটা রাজনৈতিক ছিল, ঠিক ততটাই ছিল ভাবমূর্তি বা জনসমক্ষে নিজেদের তুলে ধরার বিষয়। উষ্ণ অভ্যর্থনা, ক্যাফেতে বসে খোশমেজাজে সময় কাটানো এবং উচ্ছ্বসিত জনতার সাথে সেলফি তোলা—এসবের মধ্য দিয়ে দুই নেতার মধ্যকার সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কেরই আভাস পাওয়া গেল, যাদের দলগুলো তামিলনাড়ুর নির্বাচন-পরবর্তী সমীকরণে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে পেয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি