
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় জমে উঠেছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতে নতুন দুটি এআই মডেল এনেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা (ফেসবুক)। ‘মিউজ ওয়ান্ডার’ ও ‘মিউজ ওয়ান্ডার ফুল’ নামের মডেল দুটি দীর্ঘ সময় ধরে জটিল কাজ করতে, কম্পিউটার ব্যবহার করতে এবং এক কথোপকথন থেকে অন্য কথোপকথনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখতে পারবে। কোডিংয়ের পাশাপাশি আইন, অর্থ ও স্বাস্থ্য খাতের বিশেষায়িত কাজেও এগুলো ব্যবহার করা যাবে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জানায়, সোমবার মডেল দুটি চালুর ঘোষণা দেয় মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এগুলো এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে সক্ষম এআই মডেল। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগলের উন্নত এআই ব্যবস্থার সাথে আরো সরাসরি প্রতিযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ।
.jpg)
নতুন মডেলগুলো জটিল সফটওয়্যার তৈরির কাজ করতে পারবে। প্রয়োজনে ছোট এআই এজেন্টদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিতে পারবে। কোনো সমস্যায় পড়লেও মূল লক্ষ্য ছেড়ে না দিয়ে ভুল শুধরে বিকল্প পথে এগোতে পারবে। ‘অ্যাকটিভ মেমোরি’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একাধিক কথোপকথনেও মনে রাখবে এবং প্রয়োজনের সময় তা কাজে লাগাবে। আর ‘অ্যাকটিভ ফোকাস’ সুবিধা কোনো কাজে বাধা এলে বিকল্প পদ্ধতি খুঁজতে, নতুন তথ্যের সাথে মানিয়ে নিতে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীর কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করে জানতে সাহায্য করবে।
মেটার ভাষ্য, এসব মডেল দিয়ে বাড়িভাড়ার চুক্তি বুঝে নেয়া, বিমার দাবি নিয়ে কাজ করা, আর্থিক হিসাব বিশ্লেষণ এবং নতুন অ্যাপ তৈরি করা যাবে।
‘মিউজ ওয়ান্ডার’ এখন মেটা মডেল এপিআই ও প্রতিষ্ঠানটির ‘মিউজ কোড’ প্রোগ্রামিং টুলের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারছেন ডেভেলপাররা। আরো সক্ষম ‘মিউজ ওয়ান্ডার ফুল’ পাওয়া যাবে অর্থের বিনিময়ে ‘মিউজ কোড’ সাবস্ক্রিপশনে। মাসে ৫০ ডলার থেকে শুরু হওয়া এসব পরিকল্পনায় মেটার সবচেয়ে উন্নত মডেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। পরে প্রাথমিকভাবে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারীদের জন্য মেটার ব্যক্তিগত সহকারী ‘মিউজ’-এও যুক্ত হবে ‘মিউজ ওয়ান্ডার’।
কোডিং, তথ্য মনে রাখা ও পেশাগত কাজের কয়েকটি পরীক্ষায় মডেল দুটি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের কিছু এআই ব্যবস্থার সমান বা তার চেয়েও ভালো ফল করেছে বলে দাবি করেছে মেটা। তবে স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে মডেলগুলোর সামগ্রিক সক্ষমতা এখনো যাচাই করা বাকি।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, ক্ষতিকর কাজে সহায়তা না করা এবং সাইবার হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা বাড়াতেও মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিরাপত্তা প্রতিবেদন পরে প্রকাশ করা হবে।
মেটার এই উদ্যোগের লক্ষ্য, প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের ভাষায়, ‘ব্যক্তিগত সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি করা। অর্থাৎ, এমন এআই ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারীর লক্ষ্য, পছন্দ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বুঝতে পারবে।
তবে আগের কয়েকটি মডেলের মতো নতুন ‘মিউজ’ মডেলগুলোর মডেল-ওয়েট ডাউনলোডের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেয়নি মেটা। মডেল-ওয়েট হলো এআইকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর তৈরি হওয়া বিপুলসংখ্যক সংখ্যাগত মান, যা মডেলটি কীভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে ও উত্তর তৈরি করে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। এগুলো ডাউনলোডের সুযোগ থাকলে অন্য গবেষক ও ডেভেলপাররা নিজেদের কম্পিউটারে মডেল চালাতে বা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তন করতে পারেন। মেটা আপাতত এমন সুযোগ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা জানায়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








