
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একদিন মানুষকে হত্যা করার মতো ক্ষমতা অর্জন করতে পারে—এমন আশঙ্কার সঙ্গে অনেকটাই একমত অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই। তবে তার মতে, সঠিক পথে এগোতে পারলে এমন বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম।
কক্সন সতর্ক করেন, এআই নিয়ে কাজ করা অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তার ভাষায়, এই প্রযুক্তির ক্ষমতাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। শিগগিরই এমন ‘সুপারহিউম্যান’ এআই ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি কোনো একটি ক্ষেত্রের চেহারা বদলে দিতে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হবে। আর সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ক্ষেত্রে এআইয়ের অগ্রগতি থেমে নেই। কক্সন শুধু অ্যানথ্রপিকেই নিয়ে কথা বলেননি। তিনি আগে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—দুই প্রতিষ্ঠানেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন।
আমোদেই বলেন, কক্সন অ্যানথ্রপিককে দায়ী করেননি। বরং পুরো এআই শিল্পই খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে—এ নিয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। আমোদেই নিজেও শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মতে, এআই নিয়ে ঝুঁকি কত শতাংশ—এভাবে হিসাব করাটা খুব একটা কার্যকর নয়। বরং কোন পথে প্রযুক্তি এগোচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পথ বেছে নিলে বিপদ ঘটার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে। ভুল পথে গেলে তা অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই এআই শিল্পকে একসাথে কাজ করতে হবে। তবে অতিরিক্ত ধীরগতিও বিপজ্জনক। কারণ, তখন প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ভুল লোকের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
কক্সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, অ্যানথ্রপিক ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই নিরাপত্তার চেয়ে সবচেয়ে উন্নত মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তার ভাষায়, তারা ‘স্ব-উন্নয়নশীল সুপারইন্টেলিজেন্সের দিকে ছুটছে এবং আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।’
তিনি সতর্ক করেন, এসব এআই শিগগিরই মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম হবে—যে কোনো কিছু হ্যাক করতে, রাতারাতি পুরো কোনো ক্ষেত্র বদলে দিতে এবং বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে।
আমোদেইর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের মালিক ইলন মাস্ক। অল্টম্যান বলেন, এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। মাস্কের মন্তব্য, ‘দারিও ঠিক বলেছেন।’







