
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য কঠিন কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না ভুটান। তবে ২০০৮ সালের সাথে বাংলাদেশ দলকে প্রথম ধাক্কাটি দেয় ভুটানিরা। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর মাঠে তারা ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল আবু ইউসুফ বাহিনীকে। এরপর বাংলাদেশকে দুই দফা হারিয়েছিল এই পাহাড়ি দেশটি। দু’টিই নিজ মাঠে। প্রথমটি ২০১৬ সালে এবং পরেরটি ২০২৪ সালে। দুই দলের ১৭ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ১৩ বার জিতলেও দুই হারের পাশাপাশি দুইবার ড্র-ও করেছিল। অবশ্য গত বছর জুনে সর্র্বশেষ মোকাবেলায় বাংলাদেশ তাদের হারিয়েছিল ২-০। সেই ম্যাচে লাল-সবুজ জার্সিতে প্রথম গোল করেন হামজা চৌধুরী। এবার নেই হামজা। অর্র্থাৎ শুধু ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচেই তাকে পাবে না বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ডে ক্লাব ফুটবলে ব্যস্ততার জন্য ৯ তারিখের আগে বাংলাদেশ দলের সাথে যোগ দেয়া হচ্ছে না তার। এটা ভুটান দলের জন্য বিশাল সুযোগ। এত দিন তারা নিজ মাঠে বাংলাদেশকে হারালেও এবার ঢাকার মাঠে জয়ের চান্স। তবে এটিকে সুযোগ বলতে নারাজ ভুটানের অধিনায়ক চেন চো গ্যালেস্টেইন। তার মতে, আমরা উল্টো হামজাকে মিস করব। আমরা তার সাথে খেলতে চেয়েছিলাম। তার কাছ থেকে শেখার আছে। ইনজুরির জন্য আমি আগের ম্যাচ খেলতে পারিনি। আশা ছিল এবার হামজাকে পাবো। তার সাথে খেলব। তিনি সাফের সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু তাকে না পেয়ে সত্যিই খুব হতাশ আমি।’
শুধু ভুটান দলই নয়। পুরো বাংলাদেশ দলই মিস করছেন হামজাকে। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের মতো দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীরাও। লেস্টার সিটির এই ফুটবলার এখন শেফিল্ড ইউনাইটেডের খেলোয়াড়। এবারে সাফের আজকের এই ম্যাচ ফিফা উইন্ডোর আগে পড়েছে। ফলে হামজার ক্লাব ছাড়ছে না আজকের ম্যাচের জন্য। ৯ নভেম্বর তার বাংলাদেশ দলের সাথে যোগ দেয়ার কথা। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশ দলে যোগ দেন হামজা। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ এই ভুটানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেই লাল-সবুজ জার্সিসে প্রথম গোল তার। এরপর এশিয়ান কাপে ভারতের বিপক্ষে জয়, ফিফা প্রীতিম্যাচে ইউরোপিয়ার দেশ সানমোরিনোর বিপক্ষে জেতা সবই হামজার উপস্থিতিতে। কিন্তু এবার সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মহাগুরুত্বপূর্ণ মিশনে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশ দল পাচ্ছে না মিডফিল্ডের এই রাজাকে। যিনি একই সাথে উপরে উঠে যেমন খেলতে পারেন, তেমনি ডিফেন্সেও ভূমিকা রাখেন।
হামজাকে এই ম্যাচে মিস করার কথা ভুল্লখ করলেন বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক তপু বর্মণও। তার মতে অবশ্যই আমরা খুব মিস করব হামজাকে। তিনি যেভাবে দলকে গাইড করেন দলকে নেতৃত্ব দেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দলের জন্য। আমরা আগে থেকেই জানতাম তাকে পাবো না ক্লাবের ব্যস্ততার জন্য। এখন আমাদের কাজ হলো তাকে ছাড়াই ভুটানের বিপক্ষে জিতে তার জন্য কাজটা সহজ করে দেয়া। যাতে উৎফুল্ল চিত্তে তিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পারে।
শুধু হামজাই নয়। বাংলাদেশ দল আজ ভুটানের বিপক্ষে পাচ্ছে না যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদকেও। তাকেও পাওয়া যাচ্ছে না আজকের খেলাটি ফিফা উইন্ডোর মধ্যে না পড়ায়। ফারহান আলী মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলেছেন লাল-সবুজ জার্সিতে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে করেছেন দর্শনীয় একটি গোল। মাত্র দুই ম্যাচ তিনি খেললেও ইতোমধ্যেই তার ভক্ত হয়ে গেছেন শ্রীলঙ্কা দলের কুয়েতি কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি। তার মতে, বাংলাদেশ দলে হাজমা আছেন। রয়েছেন শমিত শোমও। তবে আমি ফারহান আলীর ভক্ত। আগামী ১০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা খেলোয়াড় হবে সে।’ এরপর মজা করেই বলেন, আমি ফারহানের জার্সি চাই। আমার শ্রীলঙ্কা দলের কোনো খেলোয়াড় যদি ফারহানের জার্সি নিয়ে নেয় তাহলে তাকে এক বছরের জন্য লঙ্কান জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করা হবে।
বাংলাদেশের গ্রুপেই আছে শ্রীলঙ্কা। ৮ তারিখে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ১১ তারিখে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশকে। লঙ্কান কোচের মতে,‘আসরে অবশ্যই ফেবারিচ বাংলাদেশ। এরপরেই আছে ভারত ও পাকিস্তান।’ তবে নিজ দলকে সেভাবে ফেবারিট ভাবছেন না তিনি। তার মতে, ‘সাফে চ্যাম্পিয়ন হলে আমি ভালো বোনাস পাবো। তবে আমরা ২০৩২ সালের এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছি। তাই আমরা এখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন লিগে খেলা শ্রীলঙ্কান রক্তের ফুটবলারদের দলে নেয়া শুরু করেছি। আমাদের এবারের সাফের দলে ১৯ জন ইউরোপিয়ান লিগে খেলা ফুটবলার আছেন।’
উল্লেখ্য শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক গোলরক্ষক সুজান পেরেরো বাংলাদেশ ফুটবল লিগের দল ফর্টিসের খেলোয়াড়।
ভারতের কোচ নওশাদ মুসা এসেছেন কার্যত ‘বি’ দল নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘আমাদের মূল দল নিউজিল্যান্ডের সাথে ম্যাচ খেলবে। এ ছাড়া কয়েক ক্লাব ১৫ তারিখের ম্যাচের জন্য খেলোয়াড় ছাড়েনি। তাই এই দল নিয়ে আসা। এরপর উল্লেখ করেন, শিরোপা ধরে রাখাটা আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। আসল টার্গেট কতটুকু ভালো ম্যাচ উপহার দেয়া সেটি।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








