
- উচ্চকক্ষের ক্ষমতা কমানো ও আসনভিত্তিক সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব;
- নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির আলোচনা,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নতুন নতুন প্রস্তাব যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সনদে নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের নিয়ম পরিবর্তন, এর ক্ষমতা সঙ্কুচিত করা এবং নতুন করে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির উদ্যোগে গণভোটের রায় কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। একই সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ এবং উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট সমাধান না থাকায় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ ছাড়াই সংসদের বিশেষ কমিটিতে এগিয়ে চলা এ উদ্যোগে তাই সংস্কারের মূল লক্ষ্য ও গণরায়ের প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। অথচ গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনসহ চারটি সংস্কার প্রস্তাবে জনগণের সম্মতি নেয়া হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত ফল অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে। ফলে জনগণের অনুমোদিত কাঠামো বাস্তবায়নের পরিবর্তে নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা যুক্ত করার উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ কমিটির সভাপতি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোটকে কমিটিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা তাতে সাড়া দেয়নি। বিরোধী জোটের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই কমিটির ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পক্ষ এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা মতামত দিয়েছেন।
এসব মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রাথমিক খসড়া সম্পর্কে কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদ এবং বিএনপির নোট অব ডিসেন্টের আলোকে মূলত প্রস্তাবগুলো তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামতও এতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। তবে কোনো প্রস্তাবই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
ভোটের অনুপাতের বদলে আসনভিত্তিক উচ্চকক্ষ নিয়ে প্রশ্ন : জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে পরবর্তী জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। নিম্নকক্ষ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনও বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় নির্বাচনে কোনো দল কম আসন পেলেও উল্লেখযোগ্য ভোট পেলে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে।
কিন্তু বিশেষ কমিটির প্রাথমিক খসড়ায় উচ্চকক্ষ গঠনের ভিত্তি হিসেবে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের পরিবর্তে নিম্নকক্ষে বিজয়ী আসনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দলের উচ্চকক্ষের সদস্য বা সিনেটর নির্বাচন করবেন; অর্থাৎ নির্বাচনের আগে উচ্চকক্ষের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পরিবর্তে নির্বাচনের পর দলগুলোর সংসদ সদস্যদের ওপর সদস্য নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
অথচ জুলাই জাতীয় সনদে নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক দলগুলোকে উচ্চকক্ষের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের বিধান ছিল। এসব তালিকায় অন্তত ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী রাখার কথাও বলা হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে উচ্চকক্ষের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি এবং দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের হিসাব- দু’টিতেই পরিবর্তন আসবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা সঙ্কোচন : উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি পরিবর্তনের পাশাপাশি এর ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবও এসেছে। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল পর্যালোচনার জন্য উচ্চকক্ষ দুই মাস সময় পেত। সংবিধান সংশোধন ও আন্তর্জাতিক চুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা ছিল।
বিশেষ কমিটির প্রাথমিক খসড়ায় বিল পর্যালোচনার সময় দুই মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সাথে সংবিধান সংশোধনী বিল, অর্থ বিল, আস্থা ভোট এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয় উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উচ্চকক্ষের পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
সংস্কার-সংশ্লিষ্টদের মতে, সংসদের দুই কক্ষের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি, আইন প্রণয়নে পর্যালোচনা এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিল ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ না থাকলে উচ্চকক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির উদ্যোগ :
বিশেষ কমিটির প্রাথমিক খসড়ায় রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট বা উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাবও রয়েছে। ভারতের আদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট উচ্চকক্ষের পদাধিকারবলে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের নাম পরিবর্তন করে ‘রাষ্ট্রপতি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন এবং এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে এ পদে থাকতে পারবেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট উভয়েই দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত বা অসমর্থ হলে স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে জুলাই জাতীয় সনদ কিংবা গণভোটের আদেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে অনুমোদিত সংস্কার কাঠামোর বাইরে নতুন এ সাংবিধানিক পদ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদটি সৃষ্টি হলে এর ক্ষমতা, দায়িত্ব, নির্বাচনপদ্ধতি এবং রাষ্ট্রপতির সাথে সম্পর্ক সংবিধানে স্পষ্ট করতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন নিয়ে বিতর্ক : সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, তাকে কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করা হবে এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা কিভাবে মনোনীত হবেন- এসব প্রশ্ন সামনে আসছে।
গণভোটের আদেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই জাতীয় সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গঠনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিশেষ কমিটির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্ধারণে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব এসেছে।
উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার ধারণা আলোচনায় এসেছে। বিকল্প হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে এ দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে অংশীজনদের আপত্তি : বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে তা শুধু রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়াবে, কোনো সুফল বয়ে আনবে না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, উচ্চকক্ষ গঠনের মাধ্যমে জনগণের অর্থ অপচয় ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তার মতে, উচ্চকক্ষের মূল উদ্দেশ্য ভারসাম্য ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। গণভোটের রায় উপেক্ষা করে এভাবে উচ্চকক্ষ গঠন করা হলে তা আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অন্যতম সদস্য বদিউল আলম মজুমদারও প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, উচ্চকক্ষের মূল উদ্দেশ্য সরকারের কর্মকাণ্ডে তদারকি ও ভারসাম্য নিশ্চিত করা। কোনো সরকার আবেগ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে উচ্চকক্ষ সেখানে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু প্রস্তাবিত কাঠামোয় সেই ভূমিকা কতটা পালন করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে তার সংশয় রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নতুন করে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। যেখানে রাষ্ট্রপতিরই বাস্তবে তেমন কোনো ভূমিকা নেই, সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট কী করবেন? তা ছাড়া উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকেই কাউকে সভাপতি করা হলে সমস্যা কোথায়? শুধু একজনকে উচ্চকক্ষের সভাপতি বানানোর জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করার প্রয়োজন কেন?’
সংস্কার পরিষদের এখতিয়ার ও সংশোধনীর ইতিহাস : গণভোটের আদেশে অনুমোদিত সংস্কার কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সাথে সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে পরিষদ গণভোটে অনুমোদিত কাঠামো বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর বাইরে গিয়ে নতুন সাংবিধানিক পদ, প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি যুক্ত করতে পারবে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। জনগণের সামনে উপস্থাপিত প্রস্তাবের বাইরে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে নতুন রাজনৈতিক ঐকমত্য বা পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও আইনজ্ঞদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ দিকে গত ৩ নভেম্বর বিশেষ কমিটির দশম বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তি, জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যমান ক্ষমতা, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, জরুরি অবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কমিটি জানায়, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। এ বিষয়ে বিরোধী পক্ষের যেকোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কমিটির বক্তব্য, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে ‘সংবিধান সংশোধনসাপেক্ষে সংস্কার’-এর কথা বলা হয়েছে।
১৯৭২ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদে মোট ১৭টি সংশোধনী পাস হয়েছে। প্রথম সংশোধনী পাস হয় ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই। সর্বশেষ সপ্তদশ সংশোধনী পাস হয় ২০১৮ সালের ৮ জুলাই। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মেয়াদ আরো ২৫ বছর বাড়ানো হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে পাস হওয়া কয়েকটি সংশোধনী উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের রায়ে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল হয়েছে।
ডিসেম্বরে প্রতিবেদন, জানুয়ারিতে বিল উত্থাপন কতটা সম্ভব?
বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল তৈরি করে আগামী জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে তা উত্থাপন করতে পারে। বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সাথে আলোচনা শেষ করে প্রতিবেদন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল তৈরি করবে এবং সংসদে বিস্তারিত আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে তা পাসের চেষ্টা করা হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে সংবিধান সংশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবাতায় সম্ভব কি না- এ প্রশ্নও উঠছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








