আদমদীঘিতে ভূমি অফিসে ঘুষবাণিজ্য, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা

Advertisement

বগুড়ার আদমদীঘি ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা মিলছে না বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। 
উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে আদমদীঘি সদর, ছাতিয়ানগ্রাম, সান্তাহার, কুন্দগ্রাম, চাঁপাপুর ও নশরতপুর ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা আদায়ের প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে অনিয়মের কৌশল বদলে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, সরাসরি আবেদন গ্রহণ না করে এসিল্যান্ড অফিসের কানুনগোর মাধ্যমে বিভিন্ন তহশিলদার ও দালালদের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। টাকা না দিলে মাসের পর মাস অফিসের বারান্দায় ঘুরেও কাজ হয় না।
ভুক্তভোগী সানাউল হক জানান, জিনরী মৌজার দু’টি খতিয়ান সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদনের পর দীর্ঘ দিন ঘুরিয়ে কানুনগোদাসাদুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা নেন। পরে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েও সম্পূর্ণ সুরাহা না পেয়ে তিনি গত ৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কুসুম্বী গ্রামের ময়েন উদ্দিন ও আলম হোসেন জানান, আট মাস ধরে ঘুরেও খতিয়ান সংশোধন হয়নি, উল্টো নথিপত্র হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে তারাও গত ১ সেপ্টেম্বর ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া তেঁতুলিয়া গ্রামের মুকুল হোসেন চার বছর আগে নামজারির আবেদন করতে গিয়ে তহশিলদার ও তৎকালীন এসিল্যান্ডের হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।