
মফিজুর রহমান অভয়নগর (যশোর)
যশোরের অভয়নগরের শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দরনগর নওয়াপাড়ার প্রাণপ্রবাহ ভৈরব নদ ক্রমেই নাব্যতা হারাচ্ছে। নদে পলি জমে বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল। কোথাও কোথাও জাহাজের তলদেশ নদীর চরে আটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ী, নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা।
দীর্ঘদিনের এ সঙ্কট নিরসনে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সরেজমিন দেখা যায়, নওয়াপাড়া নৌবন্দর এলাকায় ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে পানির গভীরতা কমে গেছে। নদের তলদেশে পলি জমে কোথাও কোথাও চর জেগে উঠেছে। বিশেষ করে ভাটার সময় পণ্যবাহী কার্গো ও বড় নৌযান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জোয়ারের অপেক্ষায় নৌযানগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর খনন কার্যক্রমের অভাবে ভৈরব নদ তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারাচ্ছে। নদীর দুই তীরে বিভিন্ন স্থাপনা, জেটি ও ঘাট নির্মাণের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সঙ্কুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় নওয়াপাড়া নৌবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়েছে।
নওয়াপাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র। এ বন্দরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার, কয়লা, সিমেন্ট, পাথর ও খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ করা হয়। ভৈরব নদের নাব্যতা সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়বে বন্দরের সামগ্রিক ব্যবসাবাণিজ্যে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এ খাতের সাথে জড়িত হাজারো শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান জানান, নদে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মালামাল ওঠানো-নামানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে জাহাজ কাক্সিক্ষত ঘাটে ভিড়তে সমস্যা হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
তাদের অভিযোগ, ভৈরব নদ খননের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। নিয়মিত খনন কার্যক্রমের পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করেও কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
নদীবন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, নওয়াপাড়া বন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় ভৈরব নদের নাব্যতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল ও স্থাপনা অপসারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খনন নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বন্দরটির কার্যক্রম আরো সঙ্কুচিত হতে পারে।
এ দিকে বন্দর ব্যবহারকারী ফারুক হোসেন জানান, ভৈরব নদের নাব্যতা সঙ্কট নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও দৃশ্যমান ও টেকসই সমাধান মিলছে না। ফলে নদীর বুকজুড়ে পলি জমে চর সৃষ্টি হচ্ছে, আর ক্রমেই বিপন্ন হয়ে পড়ছে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের ব্যবসাবাণিজ্য।
ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত নদীর প্রকৃত অবস্থা পর্যালোচনা করে পরিকল্পিত খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা। পাশাপাশি নদী দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভৈরব নদকে বাঁচানো গেলে নওয়াপাড়ার শিল্প-বাণিজ্য ও হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা।
তিনি আরো জানান, এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে নদী দখল, পলি জমা ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে নওয়াপাড়া নৌবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। বিআইডব্লিউটিএর উপসহকারী মাসুদ রানা জানান, নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। একসাথে সব জায়গায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সবখানে কাটা হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








