
মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভের মিছিলের গতিপথ পরিবর্তন, বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, প্রতিবাদ সমাবেশে প্ল্যাকার্ড বহনে নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন মনে করছে, জননিরাপত্তার অজুহাতে সরকারের নেয়া এসব পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সঙ্কুচিত করতে পারে।
ফরাসি বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপির মঙ্গলবারের এক হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৮৫০ জনের বেশি মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বিক্ষোভ ঘিরে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটক করার ঘটনা দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারের দমননীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিক্ষোভ ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা লিসেগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রশাসনের নজরে আসে। আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিস্তারের পেছনে সামাজিক অসন্তোষ, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন নাগরিক দাবির ভূমিকা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আন্দোলন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার কথা বলা হচ্ছে। তবে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে প্রশাসনের ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








