
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা মামলার রায় দেয়া হবে ১৯ নভেম্বর।
গতকাল আইসিজের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ‘গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তিবিষয়ক কনভেনশন প্রয়োগ’ সংক্রান্ত মামলায় (গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার; ১১টি রাষ্ট্র এতে পক্ষভুক্ত হয়েছে) তাদের রায় প্রদান করবে ১৯ নভেম্বর, ২০২৬। নেদারল্যান্ডসের হেগের পিস প্যালেসে ওই দিন সকাল ১০টায় একটি উন্মুক্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি ইওয়াসাওয়া ইউজি আদালতের রায় পড়ে শোনাবেন।
রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলার আইনি লড়াই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে এবং মৌখিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্তির মধ্য দিয়ে একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে গাম্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী বছর জানুয়ারিতে আইসিজে সর্বসম্মতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এতে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা রোধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে এবং নৃশংসতার প্রমাণাদি সংরক্ষণ করতে বলা হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে আদালত মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তিগুলো খারিজ করে দিয়ে জানায়, এই মামলাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের বৈধ এখতিয়ার রয়েছে। এর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়, কোনো তৃতীয় পক্ষ, এমনকি সঙ্ঘাতের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ বা গণহত্যাবিষয়ক সনদ বাস্তবায়নের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং মালদ্বীপসহ ১১টি রাষ্ট্র গণহত্যার বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোকে সমর্থন জানাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলায় যুক্ত হয়। গত জানুয়ারিতে আইসিজেতে মামলাটির গুণাগুণের ওপর উন্মুক্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ (বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি) বেশ কয়েকজন সাক্ষী রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ২৯ জানুয়ারি আইসিজে উন্মুক্ত শুনানি শেষ করে। বর্তমানে মামলাটির মূল বিষয়ের ওপর আদালতের একটি চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।
যেহেতু আইসিজে কেবল রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়ে রায় দেয়, কোনো ব্যক্তির অপরাধের বিচার করে না, তাই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এলেও দেশটির সামরিক নেতাদের কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে গাম্বিয়ার পক্ষে রায় এলে, মিয়ানমার আইনত ক্ষতিপূরণ দিতে, নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে এবং বর্তমানে বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়া দশ লাখের বেশি শরণার্থীকে নিরাপদে ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দেশে ফিরে আসার সুযোগ দিতে বাধ্য হতে পারে। তা ছাড়া, এই আইনি লড়াই আন্তর্জাতিক আইনকে নতুন রূপ দিয়েছে এবং এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইসরাইল এবং ইউক্রেন বনাম রাশিয়ার মতো অন্যান্য বড় বৈশ্বিক মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলাকেও প্রভাবিত করেছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








