গুম খুন ও জালিয়াতিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল আ’লীগ : স্পিকার

  সংসদ প্রতিবেদক

Advertisement

বিগত ১৭ বছরে নির্বাচনের নামে প্রহসন, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বিগত সরকারের নৃশংস ও বর্বরোচিত শাসনামলের চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারের অবসান হয়েছে এবং বাংলাদেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার স্পিকারের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন। 
বাংলাদেশ ও কসোভোর সম্পর্কের বিষয়ে স্পিকার বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতার চেতনা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন রয়েছে। কসোভোর জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংস্কৃতির নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বলেন, বাংলাদেশে নতুন এক গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। তারা মানসম্মত শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
রাষ্ট্রদূত কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্পিকারকে কসোভো সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় ককাস গ্রুপ গঠন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, যৌথ অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। 
বৈঠকে কসোভোর দূতাবাসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।