
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন ২৭ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ, হারালেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে। উত্তর-পশ্চিম শহরতলি ইলিনয়ের সিনেটের ২৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট আসনে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্বি হিলসকে পরাজিত করে তিনি জয় ছিনিয়ে নেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ৯৪ শতাংশ গণনার পর দেখা যায় নাবিলা সৈয়দ ৫৭ শতাংশ ভোট (৪৮,০৫১ ভোট) পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ডার্বি হিলস পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোট (৩৬,২৮২ ভোট)।
নির্বাচনী তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘রিফর্ম ফর ইলিনয়’-এর নির্বাহী পরিচালক আলিসা কাপলানের মতে, এই আসনের প্রচারণায় প্রায় ৬৫ লাখ (৬.৫ মিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা হয়েছে, যা রাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল সাধারণ পরিষদ নির্বাচনী লড়াই। প্রচারণার অর্থ সংগ্রহের দিক থেকে নাবিলা সৈয়দ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অর্ধেকেরও বেশি ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। নাবিলা একাই অন্তত ৪৭ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেন, যার বড় একটি অংশ এসেছে ইলিনয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং সিনেট প্রেসিডেন্ট ডন হারমনের নিয়ন্ত্রণাধীন তহবিল ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো থেকে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ডার্বি হিলস সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন ১৮ লাখ ডলার। ভোটের পর এক বিবৃতিতে হিলস ডেমোক্র্যাটদের বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রচারণার ‘অসাধু কৌশলের’ অভিযোগ তোলেন।
জয়ের ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত নাবিলা সৈয়দ তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের প্রচার দল ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ভোটের লোভে নয়, মানুষের জীবনযাত্রার মূল সমস্যাগুলো নিয়ে সহানুভূতি ও অনুভূতির সাখে ঘরে ঘরে কথা বলতে পেরেছে।’
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া (বার্কলে) থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা নাবিলা সৈয়দ এর আগে ইলিনয় হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সর্বকনিষ্ঠ নারী এবং প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মূলত ইনভারনেস এলাকার বাসিন্দা।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে তার বয়স এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের আক্রমণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাবিলা বলেন, ‘প্রচারণায় গিয়ে আমি চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও ভীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। আমি এই ডিস্ট্রিক্টেই বড় হয়েছি, অথচ আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছিল যে আমি এই দেশেই জন্মেছি।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
এল-সায়েদের এই জয় শুধু রাজনৈতিক সাফল্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পেশায় চিকিৎসক আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন।
ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে প্রার্থী হন তিনি। পরে মূল নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সিনেটে জায়গা করে নেন।
তবে তার নির্বাচনী প্রচার বেশ বিতর্কের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। বিশেষ করে তার মুসলিম পরিচয় প্রচারের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা বারবার তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করেন। তার বিরুদ্ধে উগ্রবাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এল-সায়েদ।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে ট্রাম্পের জয় পাওয়া মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকেই সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে দায়িত্ব নেবেন এল-সায়েদ।
অন্যদিকে জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বায়রন ডোনাল্ডস এ অঙ্গরাজ্যের পরবর্তী গভর্নর হতে চলেছেন। এ জয়ের মাধ্যমে তিনি ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শীর্ষ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়বেন।
টেক্সাসের প্রথম লাতিনা (হিস্পানিক নারী) জিনা হিনোজোসা অঙ্গরাজ্যেটির গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। জেমস ট্যালারিকো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে টেক্সাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট আসনে জয়লাভ করেছেন, যা প্রায় দুই প্রজন্ম পর এই রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় ঐতিহাসিক জয়।
কানসাস অঙ্গরাজ্য থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন,অ্যাডাম হ্যামিলটন যা প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে কানসাসে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সিনেটর হওয়ার ঘটনা। নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্য সমকামী পুরুষ হিসেবে ক্রিস পাপাস ইতিহাস গড়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








