
সিলেট ব্যুরো
মানুষের পাশাপাশি অবলা প্রাণীর জীবন রক্ষায়ও যে মানবিকতার পরিচয় দেয়া যায়, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে সিলেটে। দুই দিন ধরে একটি উঁচু কদমগাছের মগডালে আটকে থাকা ছোট্ট বিড়ালছানাকে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অক্ষত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় এক ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর এ অভিযানে সহযোগিতা করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়াইটুলা এলাকার ৬৪/১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদা-ধূসর রঙের বিড়ালছানাটি বাড়ির পাশের একটি বড় কদমগাছে উঠে আর নামতে পারেনি। দুই দিন ধরে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর ছানাটির করুণ ডাক শুনে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। গাছটি অনেক উঁচু এবং ডালপালা ভঙ্গুর হওয়ায় কেউ ঝুকি নিয়ে উপরে উঠতে সাহস করেননি।
এ অবস্থায় চ্যানেল আইয়ের সিলেট প্রতিনিধি সাদিকুর রহমান সাকী ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চান। তার অনুরোধে টিম লিডার প্রীতিশ কুমার দাসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। অভিযানের শুরুতেই দেখা দেয় বড় চ্যালেঞ্জ। গাছটি শুধু উঁচুই ছিল না, আশপাশে ছিল টিনের চাল এবং বৈদ্যুতিক তারের জটলা। ঘন পাতার আড়ালে বিড়ালছানাটি এমন এক সরু ডালে বসে কাঁপছিল, যেখানে সরাসরি কারো হাত পৌঁছানো কঠিন ছিল। ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য সতর্কতার সাথে মই বেয়ে তরতর করে উপরে উঠতে শুরু করেন। নিচে তখন শত শত মানুষের উৎকণ্ঠায় ভরা দৃষ্টি আটকে ছিল উপরের দিকে। সামান্য একটু অসাবধানতায় ভয় পেয়ে বিড়ালছানাটি লাফ দিলে বা নিচে পড়ে গেলে নিশ্চিত মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল; কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী সদস্য অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে ডালে ডালে আলো ফেলে বিড়ালটিকে অভয় দিয়ে ধীরে ধীরে তার কাছে পৌঁছান। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার চরম সতর্কতা ও কৌশলপূর্ণ প্রচেষ্টার পর অবশেষে তিনি বিড়ালছানাটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
বাড়ির মালিক ও সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর জাহানারা খানম মিলন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রীতিশ কুমার দাস বলেন, মানুষের পাশাপাশি বিপদে পড়া যেকোনো প্রাণীকে রক্ষা করাও তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








