
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
৯২টি দেশে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৬.৫ শতাংশ মানুষ মানসিকভাবে ‘উন্নত অবস্থায়’ রয়েছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট’-এর গবেষকদের এই গবেষণালব্ধ ফলাফল ৩০ অক্টোবর ‘¯িপ্রঙ্গার ন্যাচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
৯২টি দেশের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা গেছে যে, বিশ্বজুড়ে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ‘দুর্বল অবস্থায়’ রয়েছে। এমনকি ধনী দেশগুলোর তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই চিত্রটি স্পষ্ট।
১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের দেয়া তথ্যের কারণে বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যের সূচক নি¤œমুখী হয়েছে। তারা আবেগীয় স্থিতিশীলতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতা এবং সুস্থতার অন্যান্য মৌলিক উপাদানের অভাবের কথা জানিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৪.৭ শতাংশের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার কোনো লক্ষণ নেই; অন্য দিকে, ২৮.৬ শতাংশ মানুষ বিষণœতা ও উদ্বেগের মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গের কথা জানিয়েছেন।
গবেষণার প্রধান লেখক, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেইলম্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক কাই রুগেরি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ফলাফলগুলো নীতিনির্ধারকদের জন্য কেবল একটি সতর্কবার্তা নয় যে, তরুণ প্রজন্ম বা যারা জীবনধারণের জন্য হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এটি কেবল অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান সময়েরই একটি বড় সঙ্কট।’
উদ্বেগজনক প্রবণতাগুলো
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের তাদের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়েছিল। প্রশ্নগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে তাদের সক্ষমতার অনুভূতি, আশাবাদ, আত্মসম্মানবোধ এবং এ ধরনের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা যায়। এ ছাড়া গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের বয়স, লিঙ্গ, আয়, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন জনমিতিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন, যার ভিত্তিতে তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যে ‘ইউ-আকৃতির বক্ররেখা’-অর্থাৎ তরুণ ও বয়স্ক ব্যক্তিরা মধ্যবয়সীদের তুলনায় বেশি সুখী- এমন ধারণা প্রচলিত ছিল, তা এখানে দেখা যায়নি। এমনকি যেসব দেশ ‘উন্নত জীবনযাত্রার মান’-এর জন্য পরিচিত, সেসব দেশের মানুষও উদ্বেগজনক প্রবণতার কথা জানিয়েছেন। অনেক বৈশ্বিক গবেষণায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে উচ্চমাত্রার ‘জীবন-সন্তোষ’ দেখা গেলেও, এই গবেষণায় সেই স্কোর ছিল তুলনামূলক কম।
গবেষণার মানদণ্ড অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র ৬.৫ শতাংশকে ‘সমৃদ্ধ’ অবস্থায় আছে বলে গণ্য করা হয়েছে। যদিও ৩৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে সহায়তা পান, তবুও অনেকেই শারীরিক ও মানসিক শক্তির অভাব এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








