
নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম
এনসিটির আদলে এবার চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশী অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এমন গুঞ্জন উঠেছে। ইতোমধ্যে সিসিটির দেশীয় অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেকের সাথে বন্দরের চুক্তির মেয়াদ গত ২ নভেম্বর শেষ হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি আরো তিন সপ্তাহ টার্মিনালটি পরিচালনা করবে এবং এরই মধ্যে অন্তবর্তীকালীন সময়ের জন্য নতুন অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। সম্ভাব্য অন্তবর্তীকালীন অপারেটর হিসেবে নাম উঠে আসছে চট্টগ্রাম ড্রাইডকর।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের আগে টার্মিনালটি সাইফ পাওয়ার টেক থেকে গত বছরের ৬ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেডর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে এনসিটি পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সিসিটিও এখন চিটাগাং ড্রাইডকের নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। ফলে সিসিটিও এনসিটির একই আদলে বিদেশী অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এনসিটি যে প্রক্রিয়ায় বিদেশীদের হাতে দেয়া হয়েছে, একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে সিসিটির ক্ষেত্রেও। এনসিটির পর সিসিটিও বিদেশীদের হাতে গেলে বন্দরের হাতে আর কোনো টার্মিনাল থাকবে না বলেও সুত্র জানায়।
শিপিং সংশ্লিষ্টদের মতে, এনসিটির বাৎসরিক হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ১৫ লাখ টিইইউএস। সিসিটির ক্যাপাসিটি সাত লাখ টিইইউএস। আর আরএসজিটিআইকে ইজারা দেয়া পিসিটির ক্যাপাসিটি পাঁচ লাখ টিইইউএস। সিসিটি এবং পিসিটি একক প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিলে তাদের হাতেই চলে যাবে ১২ লাখ টিইইউএস হ্যান্ডলিং এর কর্তৃত্ব। যা বন্দরের বিদ্যমান কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর এক তৃতীয়াংশের বেশি। আর ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাচ্ছে এনসিটির ১৫ লাখ টিইইউএস। ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বলতে কার্যত জিসিবির সামান্য অংশই থাকছে।
সিসিটি নিয়ে আরএসজিটিআই-ডিপি ওয়ার্ল্ড টানাটানি!
চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে যাবার পর এবার বন্দরের সিসিটি নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে। একদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ড যেমনি সিসিটি কব্জায় নিতে চায়, তেমনি সৌদিভিত্তিক আরএসজিটিআই-ও সিসিটি নিতে চায়। আরএসজিটিআই শুধু সিসিটি নয়, বন্দরের জিসিবি (জেনারেল কার্গো বার্থ) এবং বে-টার্মিনালের মাল্টিপারপাস টার্মিনালও পিপিপির আওতায় নিতে আগ্রহী। তবে এই আরএসজিটিআই মূল সৌদি আরএসজিটিআই কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে মেরিটাইম সংশ্লিষ্টদের কাছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় একটি চিঠি পাঠায়। এতে বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘সিসিটি এন্ড জেনারেল কার্গো বার্থস’ এবং ‘দ্য বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল’ প্রকল্পসমুহ পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রেড সী গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)-এর আগ্রহ ব্যক্তকরণ বিষয় সংক্রান্ত। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে আরএসজিটিআই কর্তৃক চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এর জন্য অপারেটর হিসেবে নিয়োগের পত্রটি প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সুত্র জানিয়েছে, এর আগে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর গত ৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪র্থ বাংলাদেশ দুবাই জয়েন্ট পিপিপি প্লাটফর্ম মিটিং অনুষ্টিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশের পক্ষে আশিক চৌধুরী এবং দুবাই সরকারের পোর্টস কাস্টমস এন্ড ফ্রি জোনস কর্পোরেশনের সিইও নাছের আব্দুল্লাহ আল নিয়াদি নিজ নিজ পক্ষে নেতৃত্ব দেন। ডিপি ওয়ার্ল্ডের গ্রুপ সিইও যুবরাজ নারায়নসহ ডিপি ওয়ার্ল্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই সভায় যোগ দেন।
ওই সভায় ডিপি ওয়ার্ল্ড এনসিটি টার্মিনালকে একটি অবিচ্ছিন্ন টার্মিনালে পরিণত করতে এর সংলগ্ন সিসিটি টার্মিনালকে আধুনিকীকরণ ও পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ের সাথে যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মে সিসিটি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ সভাগুলোতে এটিকে একটি পৃথক প্রকল্প হিসেবে আলোচনা করতে সম্মত হয় বলেও সূত্র জানায়।
আর এবার আরএসজিটিআই সিসিটি, জিসিবি এবং বে-টার্মিনালের মাল্টিপারপাস টার্মিনালে বিনিয়োগে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ দেখাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আরএসজিটিআইর আগ্রহকে আমলে নিয়ে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক পত্রও দিয়েছে। শিপিং সংশ্লিষ্টদের মতে শ্রম বাজারের ইস্যু সামনে রেখে দেশ দু’টি এনসিটি-পিসিটির পাশাপাশি সিসিটিও নিতে চায়, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম নয়া দিগন্তকে বলেন, তিন সপ্তাহের মধ্যেই অন্তবর্তী সময়ের জন্য সিসিটি অপারেটর নিয়োগ হবে। বন্দর থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সেটি পর্যালোচনা চলমান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








