
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আন্দোলনের মিরপুর জোনের সমন্বয়ক এস এম সায়েম। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার তিনি জবানবন্দী দেন। সাক্ষ্যে আন্দোলন দমনে কারফিউ জারি, ইন্টারনেট বন্ধ, নির্বিচারে গুলি এবং নিজের ওপর হামলা ও হুমকির বিবরণ তুলে ধরেন তিনি। জবানবন্দীর একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে সায়েম বলেন, ‘এমন শাস্তি দেন যেন যারা পাপ করেছেন তারা ভয়ে থাকেন’।
বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। অপর সদস্য হলেন বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান।
জবানবন্দীতে সায়েম বলেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কারফিউ। তার মতে, কারফিউ জারি না হলে এত মানুষ নিহত হতেন না। কারফিউ জারির পেছনে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পর্যায়ে প্রসিকিউশন জানতে চান, কারফিউ জারির সাথে সংশ্লিষ্ট ওই দুই ব্যক্তি এখন কোথায় আছেন। তখন কাঠগড়ায় বসে থাকা আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাদের দেখিয়ে দেন সায়েম।
ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়েও সালমান এফ রহমানের ভূমিকার অভিযোগ তোলেন তিনি। সায়েম বলেন, ১৮ জুলাই রাতে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করে দেন। ওই রাতে সালমান এফ রহমানের সাথে পলকের কথোপকথন হয়। সেখানে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে সালমান তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানতে পারেন তিনি।
সাক্ষ্য দেয়ার সময় সায়েম বলেন, ‘পলক কার পরামর্শে ইন্টারনেট বন্ধ করেছেন, সেটা বড় কথা নয়, সালমান এফ রহমান ওনাকে উৎসাহ দিয়েছেন।’
নিজের ওপর নির্যাতন ও হুমকির বিবরণ দিতে গিয়ে সায়েম বলেন, আন্দোলনের সময় তাকে আটক করতে ডিবি পুলিশ তার বাড়িতে গিয়েছিল। তার বাড়ির একটি দেয়াল গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয়া হয়। তাকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই গুলি করে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। ‘আমি মারা যাইনি। কিন্তু আমার সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে, তার বিচার কে করবে?’ ট্রাইব্যুনালে এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাসপাতালে নেয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন সায়েম। তিনি বলেন, চার-পাঁচজন আহত ব্যক্তিকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরে মারা যান। একজনের পেটে গুলি লেগে ভুঁড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। আরেকজনের মাথায় গুলি লেগে মগজ বের হয়ে যায়। গুলিতে একজনের চোখও অন্ধ হয়ে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত সায়েম জবানবন্দীর শুরুতে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন। জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি মিরপুর জোনের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
জবানবন্দীতে তিনি ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেন। তবে শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল নয়, সংস্কার চেয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কয়েকজন কোটা পুনর্বহালের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন। ৪ জুন ২০২৪ হাইকোর্ট কোটা পুনর্বহালের পক্ষে রায় দেন। এর পরই নতুন করে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়।
সায়েম বলেন, ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানান। সরকার দাবিগুলো আমলে না নেয়ায় ৬ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরদিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে অবরোধ করেন। পরে ৯ জুলাই এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
আন্দোলন দমনে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছিল বলে জবানবন্দীতে অভিযোগ করেন তিনি। ১১ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের মারধর না করার কারণ জানতে চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন সায়েম। ওই কথোপকথন ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় বলে জানান তিনি।
১৪ জুলাই চীন সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর আন্দোলন নতুন মাত্রা পায় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন সায়েম। তার ভাষ্য, আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ ও ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন।
ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সায়েমের দাবি, তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। মধুর ক্যান্টিন, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে, মল চত্বর, টিএসসি ও শাহবাগ এলাকায় এসব হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানান তিনি। পরদিন ১৫ জুলাইও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন সায়েম। তার অভিযোগ, আহত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, ওই দিন সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারা দেশে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন বলে জানান তিনি।
সায়েম বলেন, ওই দিন মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে বিকেল ৪টা থেকে তিনি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ কারণে পুলিশ তাকে আটক করে নির্যাতন চালায়। পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিলের কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন বলে জানান সায়েম। একই দিন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীরা সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে হলে অবস্থান করেন।
১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও আন্দোলনে যোগ দেন বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন সায়েম। ওই দিন উত্তরায় মীর মুগ্ধ গুলিতে নিহত হন। সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরদিন ১৯ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির দিন মিরপুর এলাকায় ৩৪ জন আন্দোলনকারী নিহত হন বলে দাবি করেন সায়েম। ওই দিন মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে আসিফ ইকবাল নামের এক আন্দোলনকারী বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে জানান তিনি।
সায়েমের অভিযোগ, মিরপুরে আহত ও নিহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দেয়া ডা. আজমল হাসপাতালে রাতে পুলিশ অভিযান চালায়। সেখান থেকে সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডড্রাইভ ও রোগীদের রেজিস্টার খাতা নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিন মিরপুরের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে ভাঙচুর এবং বিআরটিএ অফিস ও সিটি করপোরেশনের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আন্দোলনকারীদের দায়ী করার অভিযোগও করেন তিনি। ১৯ জুলাই রাতে কারফিউ জারির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে সায়েম বলেন, ওই দিন রাতে ওবায়দুল কাদের সংবাদ সম্মেলনে কারফিউ এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশনার ঘোষণা দেন। তার দাবি, ওই রাতেই আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের মধ্যে আন্দোলনকারীদের দমনে কারফিউ ব্যবহারের বিষয়ে কথোপকথন হয়। ২০ জুলাই কারফিউ চলাকালে মিরপুর-১০ এলাকায় সিফাত নামের এক আন্দোলনকারীকে তার বাবার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন সায়েম। এ সময় সারা দেশে গণগ্রেফতার চলছিল বলেও জানান তিনি। ২১ জুলাই আদালত কোটা পুনর্বহালের রায় দেন। তবে আন্দোলনকারীরা সেই রায় প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান সায়েম। তার ভাষ্য, এরই মধ্যে তিন শতাধিক আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সংলাপের প্রস্তাবও তারা গ্রহণ করেননি।
এরপর আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের আটক করার ঘটনা তুলে ধরেন সায়েম। তিনি বলেন, ২৬ জুলাই গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র হাসপাতাল থেকে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে ডিবি পুলিশ নিরাপত্তার নামে তুলে নিয়ে যায়। পরে সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও নুসরাত তাবাসসুমকেও আটক করা হয়। তাদের মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন তিনি। সায়েমের অভিযোগ, আটক সমন্বয়কদের দিয়ে জোর করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। পরে ১ আগস্ট ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়ককে ছেড়ে দেয়া হয়। ৩০ জুলাই ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ এবং ৩১ জুলাই ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন সায়েম। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন বলে জানান তিনি। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন সায়েম। পরদিন ৪ আগস্ট সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলার অভিযোগ করেন তিনি।
সায়েম বলেন, ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তা এক দিন এগিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন। আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হলে শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে চলে যান। এর মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটে বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে হতাহতের সংখ্যা নিয়েও বক্তব্য দেন সায়েম। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ আন্দোলনে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর হামলায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তাদের জানামতে নিহতের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। আহত হয়েছেন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার মানুষ হাত, পা কিংবা চোখ হারিয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জবানবন্দীর শেষ দিকে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান সায়েম। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ফলে সাক্ষীরা আতঙ্কে রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের কাছে তার প্রত্যাশা, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের এমন শাস্তি দেয়া হোক, যাতে সাক্ষীদের নয়, অপরাধীরাই ভয়ে থাকেন।
সায়েমের জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের জেরার জন্য আগামী ৮ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








