
সংসদ প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা গেছে। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংশোধনের পক্ষে ছাত্রদল প্রস্তাব দিলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে বৈঠক বর্জন করেছে ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রতিনিধিরা।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংবিধানে শিক্ষা ও চিকিৎসাকে মৌলিক অধিকার করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের লিখিত প্রস্তাব জমা দেয়ার জন্য সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর বিরোধিতা করেন। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বদলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিল উত্থাপনের মাধ্যমে সংশোধনের প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনঃস্থাপনের দাবি জানান। তবে ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি ছাড়া প্রায় ১৫টি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত আরিফ সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি পৃথক সংস্কার সভা এবং সাংবিধানিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে পৃথক সচিবালয় গঠনের দাবিও জানায় সংগঠনটি।
এদিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ার প্রতিবাদে বৈঠক বর্জন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ। শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাও একই অভিযোগ তুলে বৈঠক বর্জনের ঘোষণা দেন। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশও জনগণের রায় উপেক্ষার অভিযোগ এনে এই সভা থেকে বিরত থাকে।
অংশ না নেয়ার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি। গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ায় তারা বৈঠক বর্জন করেছেন।
ছাত্র সংগঠনগুলোর এই অনৈক্যের মধ্যে বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে এবং সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








