
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনো বেকার থাকবে না। সব জেলার বেকারদের দেবেন কর্মসংস্থান, করবেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, হবেন সবাই স্বাবলম্বী।’ এই ‘থিউরি’ দিয়ে বেকারদের কাছ থেকে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। মামলা হয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এ ব্যক্তিটি হলেন, ‘এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসু উদ্দিন আহমেদ রিয়াদ (৪৫)।
নিজ থিউরি অনুযায়ী, রিয়াদ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বেকারদের চাকরি দেয়ার নাম করে নিয়ে আসেন ঢাকায়। তাদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক ও তিন-চারটি করে ফাঁকা স্ট্যাম্প জামানত হিসাবে নেন। চাকরিতে কিছু দিন যেতে না যেতে বিভিন্ন অজুহাতে রিয়াদ তাদের করেন চাকরিচ্যুত। পরে রিয়াদ ফেরেন তার আসল চেহারায়। ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে মোটা অঙ্কের টাকা বসিয়ে রিয়াদ দেন চেক ডিজঅনার মামলা। চেক মামলায় রায় হয়ে যাবে ভয় দেখিয়ে রিয়াদ আদায় করেন টাকা। এখানে চাকরির জন্য যারাই এসেছেন, ফিরতে হয়েছে মামলা নিয়ে। অনেকে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। জরিমানা দিয়েও রেহাই পাননি অনেকে। অনেককে টাকার জন্য অফিসের সম্পদ চুরি, ডকুমেন্ট চুরি, টাকা চুরির মামলা দিয়েছে।
সম্প্রতি মাসুদ হোসাইনসহ বেশ কয়েক ভুক্তভোগী ডিএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ করলে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ বিষয়ে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাকে মিথ্যা চুরির মামলা দিয়েছেন। ১০ লাখ টাকা চুরির মামলায় এক মাস কারাগারে থেকে জামিনে বের হলে আবার তাকে দেয়া হয় আরেকটি চেকের মামলা। এ মামলায় দেখানো হয় ১৩ লাখ টাকা, চুরির মামলার কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি বলে মামলাটি আদালত থেকে খারিজ হয়ে যায়। পরে আমাকে ওই চেকের মামলার রায় হয়ে যাবে বলে ভয় দেখায়।
একপর্যায়ে তিনি চার লাখ টাকায় রফা করেন, চার লাখ টাকা তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে ধার করে এনে দিলেও এখনো তাকে কোনো লিখিত কাগজ দেয়নি, কাগজ চাইলে বলে পরে আসেন।
আরেক ভুক্তভোগী এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা রুবেল গণমাধ্যম বলেন, আমার নামে প্রথমে আট লাখ টাকার একটি চুরির মামলা দেয়। রংপুরে আমি ৪৪ দিন কারাগারে ছিলাম, জামিনে বের হওয়ার পর ওই যে আমার চাকরিতে যোগদানের সময় একটি ব্ল্যাংক চেক ছিল, সেই চেকে আমাকে আবার ১৬ লাখ টাকার মামলা দেয় ঢাকার আদালতে। মামলা তোলার জন্য বারবার অফিসে গেলে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে।
এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের আরেক ভুক্তভোগী সাবেক কর্মকর্তা মফিজদ্দিন (২৫) গণমাধ্যমকে বলেন, মামলাবাজ এমডি আমার নামে মোট পাঁচটি মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে একটা চুরির মামলা, একটা হাফ মার্ডার মামলা, একটি অপহরণ মামলা, দু’টি চেকের মামলা।
আরেক ভুক্তভোগী মাসুদ হোসাইন বলেন, আমি ২০১১ সাল থেকে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত ছিলাম। চাকরিতে নিয়োগের সময় কোম্পানিটি আমার একটি ব্ল্যাংক চেক রাখে ফেরতযোগ্য বলে। কোম্পানির বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি দেখে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিই। অব্যাহতির দুই বছর পর কোম্পানিটিতে থাকা আমার ওই ব্ল্যাংক চেকে আমাকে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ টাকার একটি মামলা দেয়। কাগজে-কলমে কোম্পানিটির কাছে আমি পাঁচ মাসের বেতন পাই, সেটি না দিয়ে উলটো আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে প্রতিনিয়ত। তাই আমি কোম্পানির মামলাবাজ মালিক রিয়াদের যথাযথ শাস্তি দাবি করছি।
জানা গেছে, রিয়াদ নোয়াখালী সেনবাগের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। ব্যবসার নামে বেকারদের কাছ থেকে এভাবে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এখন তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে এজেআর কুরিয়ারের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








