বিদেশী সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ইরান-সৌদি আলোচনা
আব্বাস আরাকচি।

আনাদোলু এজেন্সি
বিদেশী সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় মঙ্গলবার এই তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের লড়াই তীব্র হয়ে ওঠার পটভূমিতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সাথে কোনো শত্রুতা নেই উল্লেখ করে যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার তাগিদ দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। গতকাল মঙ্গলবার এক বার্তায় তিনি জানান, বিদেশী কোনো সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই অঞ্চলের দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌদি আরবের সাথে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাকচি লিখেছেন, গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমরা কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করি এবং সৌদি আরবের সাথে আমাদের সংলাপ অব্যাহত রেখেছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পৌঁছানো, যা যেকোনো বিদেশী সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত থাকবে।
আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি জানান, তেহরান সফরে আসা সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সাথে এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ফের কোনো হামলা চালালে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান পাল্টা আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
রিয়াদ প্রশাসনের মতে, ‘সামরিক সঙ্ঘাতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে’ আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখাই ছিল এই যোগাযোগের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। গত আগস্টের পর ইরানের সাথে এই তিন দেশের মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের কোনো বৈঠক।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সঙ্ঘাত সৌদি আরব ও ইয়েমেনেও ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হাউছি যোদ্ধারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব- আল মানদেব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়ায় সৌদি আরবের ওপর তাদের হামলার তীব্রতা বেড়েছে। এই প্রণালীটি হরমুজ প্রণালীর বিপরীতে আরব উপদ্বীপের অপর প্রান্তে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ।
সঙ্ঘাত চলাকালে হাউছিরা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা এবং রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এর ফলে বিমান চলাচল ও তেল রফতানি বিঘিœত হয়। জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা বিমান হামলা চালায়। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারকে রাজধানী সানা থেকে হাউছিরা উৎখাত করার পর থেকেই দারিদ্র্যপীড়িত ইয়েমেনে এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলে আসছে। 
কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার একটি প্রস্তাব তুলে ধরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের দাবিগুলো মানলে পরদিনই প্রণালীটি খুলে দেয়া হবে। ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামাবাদ স্মারকের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের অবসান, তেল রফতানির অনুমতি, আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আগের স্তরে নামিয়ে আনা।
আরাকচি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালী খোলার আলোচনা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিসংক্রান্ত চুক্তি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সোমবার জানান, ইরানের সংশোধিত সাত ধাপের কূটনৈতিক প্রস্তাবটি মাত্র দুই দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তবে তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক পদক্ষেপের ওপর।

Advertisement