শ্রমিকদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট ইন্ধন রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোশাক শিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনের সাথে প্রকৃত শ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিগত কয়েক দিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং শিল্প খাত ধ্বংস করতে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিস্টের সমর্থকরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে অনুপ্রবেশ করেছে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। 
মন্ত্রী গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তৈরী পোশাক খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিরসন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ  ফিরিয়ে আনতে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন। 
তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তারা শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না এবং অন্যায্য কর্মকাণ্ডে জড়িত এসব চক্রকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি শ্রমিকদের কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে অবিলম্বে কাজে ফেরার ও নিজ নিজ কর্মস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় যেসব নিরপরাধ শ্রমিক বা নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের আইনানুগ মুক্তির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। 
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা শেষ করে দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মেহনতী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে একটি শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ সংক্রান্ত বোর্ডের প্রথম সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রী জানান। 
প্রেসব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সব পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় ফিরে গিয়ে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বান জানান। 
তিনি বলেন, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট বা কারখানা বন্ধের ডাক দেননি, বরং কতিপয় বহিরাগত এসে কারখানায় ঢিল মেরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মূল দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, যা সরকার গঠন করেছে। মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় শ্রমিক পক্ষের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে কোনো শ্রমিক সংগঠন পাশে দাঁড়াবে না। তাই কারখানার উৎপাদন সচল রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই যৌক্তিক ও মানসম্মত নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। 
শ্রমিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা আল শামীম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো: মোস্তফা, বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বাবুল (মো: আকাশ আহমেদ), স্বাধীন গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারক (মো: শাকিল), জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা খান, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো: তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, রেডিমেড গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমীন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি মো: জাকির হোসেন, মোশরেফা মিশু, নাজমা আখতার প্রমুখ। 
এর আগে মন্ত্রী সকালে গার্মেন্ট মালিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন।