৭ আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

 নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, শাহজাহান খান, দীপু মনি, মির্জা আজম ও ফারুক খান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মির্জা আজম পলাতক। অভিযোগটি শুনানির জন্য পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে। অভিযোগ দাখিলের পর প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামীম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে অভিযুক্তরা পরিকল্পনা, সহযোগিতা ও বাস্তবায়নের সাথে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার আন্দোলন দমনকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটও রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। তামীমের দাবি, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী সদস্য ও নীতিনির্ধারক হিসেবে অভিযুক্তরা দমন-পীড়নে অংশ নিয়েছিলেন এবং এতে সহায়তা ও পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওই দমন-পীড়নে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজার আহত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রমাণ হিসেবে শেখ হাসিনা ও অভিযুক্তদের মধ্যকার কথোপকথনের রেকর্ডিং এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসঙ্ঘের তথ্য-অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন।
জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই এক বৈঠকে শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার, হত্যা এবং মরদেহ গুম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
প্রসিকিউটর বলেন, অভিযুক্ত অপরাধগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং দেশজুড়ে পরিকল্পিত, পদ্ধতিগত ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের অংশ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

Advertisement