হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন আখতারুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তাকর্মীকে হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল রোববার তার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো: জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
এর আগে অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে গত সপ্তাহে আবেদন করেন আখতারুজ্জামান। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সাথে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি আর্টনি জেনারেল মো: মনজুরুল আলম (সুজন)।
গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান। সেখানে লাগেজ বহনের ট্রলির তীব্র সঙ্কট, ব্যাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যাত্রীদের সাথে প্রটোকল সহকারীদের বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী মো: শাহরিয়ার আলম সজীব বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ আনা হয়।
এরপর ২ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা ঢাকার অফিসার্স হাউজিং স্কিম (ডিওএইচএস) এলাকায় তার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করেন। পরদিন ৩ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে নি¤œ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন আখতারুজ্জামান। শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন।
আখতারুজ্জামানের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন আখতারুজ্জামান। ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।
আখতারুজ্জামান একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে টকশো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে আলোচনায় ছিলেন তিনি। 
এমন অবস্থার মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান।