
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবহন সেক্টরের ‘দানব’ খ্যাত শাহজাহান খান এবং এনায়েত উল্লাহ নেই। শাহাজাহান খান জেলখানায়, আর এনায়েত উল্লাহ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অথচ এখনো পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে পতিত আওয়ামী লীগের লোকজনই। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ রুটে চলাচলকারী বাসের মালিকও তারা। শুধু কিছু নামের পরিবর্তন হয়েছে, আর মালিক পরিবর্তন হয়েছে। ইস্কাটনের অফিসটিতে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও টার্মিনাল এবং রাস্তাগুলোতে তারাই এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে পরিবহন।
রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনাল। যে টার্মিনাল থেকে দেশের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ বাস চলাচল করে। এই টার্মিনালটি এখনো নামে বেনামে আওয়ামী লীগই নিয়ন্ত্রণ করছে। নেতৃত্বে ওপরের দু’একটি নামের পরিবর্তন এলেও নিয়ন্ত্রণ মূলত আওয়ামী লীগের মালিক শ্রমিকদের হাতেই। জাহিদুল লতিফ খোকা, যিনি সায়েদাবাদ বাস মালিক সমিতির সদস্যসচিব। ট্রান্সসিলভা বাসের মালিক তিনি। এই পরিবহনটি আওয়ামী লীগের সময়ও দাপটের সাথেই রাজধানীতে চলেছে।
সাবেক মেয়র তাপসের সাথে আপস করে এই খোকা নগর পরিবহন ব্যবসায় নামে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। তবে জাহিদুল লতিফ খোকা এ ব্যাপারে বলেছেন, তিনি কখনো তাপসের লোক ছিলেন না। তাপসের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিলো না। উল্লাহ বাধ্য করেছিলেন তার কোম্পানির ২০টি বাস নগর পরিবহনে যুক্ত করতে। আর তিনি তখন ট্রান্সসিলভার কোনো নেতৃত্বে ছিলেন না। ওই কারণে ট্রান্সসিলভা কোম্পানিটিও আজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহত্তর নোয়াখালী বাস মালিক সমিতির এখনো সভাপতি রয়েছে স্টার লাইনের মালিক আলা উদ্দিন। যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন তিনি। একই সাথে ফেনী পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তিনি এখনো নিয়ন্ত্রণ করছেন বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মালিক শ্রমিকদের। তার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ একজন শ্রমিক লীগ নেতা। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন, কার বাস চলবে; আর কার বাস চলবে না। খোকা বলেছেন, ‘ব্যবসার স্বার্থে আমরা সবাই এক। ব্যবসার ক্ষেত্রে এগুলো আমরা দেখি না।’ তিনি বলেন, ১৫ বছর এই সেক্টর এককভাবে আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। চাইলে কোটি টাকার গাড়ী কিনে কেউ মালিক হতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই সেক্টরের এখনো ৮০ ভাগ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী লীগ।
দক্ষিণবঙ্গ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরীফ একজন শ্রমিক লীগ নেতা বলে জানা যায়। অথচ পরিবহন সেক্টর এখনো দাপটের সাথেই নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। এভাবে প্রতিটি মালিক ও শ্রমিক সংগঠনেই এখনো আওয়ামী লীগের দাপট বহাল রয়েছে। আর এই সেক্টরের লাখ লাখ টাকার চাঁদাও তাদের মধ্যেই ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেছেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে তারা ব্যবসা করতে পারেননি। রাস্তায় গাড়ী নামালে পুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের পাণ্ডারা। অথচ এখনো তারা ব্যবসা করতে পারছেন না। এক সময় যারা আওয়ামী লীগের হয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছে, এখন অজ্ঞাত ইশারায় তারাই এই সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে। মালিক শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা উঠিয়ে ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব কারণে ভয়ে কেউ এই সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চায় না। যে কারণে দেশের অন্যতম এই সেবাখাতটি দিনদিন অধঃপতনে যাচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








