
- প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন হচ্ছে
- দরপত্রে সাড়া না দেয়ার তিন কারণ
- ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে কমিটি গঠন
হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সরকারিভাবে নির্ধারিত উন্মুক্ত দরপত্রে কোনো দরদাতা অংশগ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে প্রকল্পটির খরচ প্রাক্কলিত ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। প্রকল্প প্রস্তাবনাটি এখন সংশোধন করা হচ্ছে। ব্যয়বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মূল প্যাকেজ জিডি-১-এর জন্য প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৪৩.৫৪ কোটি টাকা (আমদানি শুল্ক ও ভ্যাটসহ)। ই-জিপি সিস্টেমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং সম্ভাব্য দরদাতাদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত করা হলেও কোনো দরদাতা এতে অংশ নেননি। মন্ত্রণালয়কে দেয়া প্রকল্প পরিচালকের তথ্যমতে, দরদাতারা অংশ না নেয়ার পেছনে তিনটি মূল ঝুঁকি কাজ করেছে।
আর সেগুলো হলো- ইতোমধ্যে নির্মিত বিশালাকার স্থাপনার ভেতরে পাওয়ার ও অপটিক্যাল ফাইবার কেব্লিং কাজের ঝুঁকি। স্থাপিত ক্ল্যাডিং খুলে কাজ শেষে তা পুনঃস্থাপন এবং ক্ষতির বিপুল ঝুঁকি। তৃতীয় টার্মিনালটি বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিযুক্ত ঠিকাদারদের অধীনে থাকায়, তাদের বাইরে অন্য কারো কাজের পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা।
সময়সীমার চাপ, ডিপিএমের পথে টেলিটক
ডাক ও টেলিযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নথি অনুযায়ী, আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। ২৯ নভেম্বরের মধ্যে নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নেটওয়ার্ক চালু করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আবার দরপত্র আহ্বানের সুযোগ না থাকায় সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বা ডিপিএম গ্রহণের প্রস্তাব দেয় টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।
প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত দরপত্রে কোনো দরদাতা অংশ না নেয়া এবং বিমানবন্দরে আগে থেকেই হুয়াওয়ের যন্ত্রপাতি স্থাপিত থাকায় তাদের মাধ্যমে নতুন নেটওয়ার্কের সমন্বয় বা ইন্টিগ্রেশন দ্রুত করা সম্ভব হতে পারে। সময়ের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এই যুক্তিতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। তবে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে যাওয়ার ফলে ব্যয় কতটা যুক্তিসঙ্গত থাকছে- তা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যয়বৃদ্ধি, যৌক্তিকতা যাচাইয়ে কমিটি
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। নথি অনুযায়ী, মূল প্যাকেজ জিডি-১-এর আওতায় রয়েছে অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম-ভিত্তিক রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি, ওয়াই-ফাই সমাধানসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও সেবা। এই প্যাকেজের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল আমদানি শুল্ক ও ভ্যাটসহ ৪৩.৫৪ কোটি টাকা। অন্য দিকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ৯টি পজিশনে মাইক্রো বিটিএস, অনশোর সরবরাহ ও সেবা এবং বেবিচক-নির্দেশিত ঠিকাদারদের কাজ অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় ২৬.৭৩ কোটি টাকা বাড়ছে। মূল ডিপিপি সংশোধনের পর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪৭.৩৭ কোটি টাকা।
ব্যয়বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাই এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (পিএন্ডআই) ডি এম নূরুল হুদাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের নির্দেশ
প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগের সম্মতি নিয়ে দ্রুততম সময়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) অনুমোদন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এক দিকে তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, অন্য দিকে দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশ না নেয়ায় বদলাতে হচ্ছে ক্রয়পদ্ধতি। তার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রকল্পের ব্যয়বৃদ্ধির যৌক্তিকতা যাচাইয়ের প্রশ্ন। সব মিলিয়ে, তৃতীয় টার্মিনালে নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রকল্পটি এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন এবং সংশোধিত ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করার- এই তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








