
আশরাফুল মামুন মালয়েশিয়া
সংগ্রাম থেকে সাফল্য, আর সাফল্য থেকে দেশ-বিদেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত এক আলোকিত জীবনের গল্প। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন মানবিক ব্যক্তিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রবাদপ্রতিম শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে কোটি তরুণের কাছে অনুকরণীয় এক নাম। কোনো জাদুমন্ত্রে নয়, নিজের সততা, অসাধারণ মেধা ও হাড়ভাঙা পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রবাসের মাটিতে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও তিনি ভুলে যাননি নাড়ির টান, মা, মাটি ও দেশকে।
স্বদেশের ছিন্নমূল, এতিম ও অসহায় মানুষের দুর্দশা লাঘবে নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন তিনি। সাধারণ একজন কর্মী থেকে মালয়েশিয়ার আইন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ কমিউনিটির উপদেষ্টা হয়েছেন সাতক্ষীরার কৃতী সন্তান বিশিষ্ট শিল্পপতি দাতোক সেরী হাজী হাসান আলী।
সাতক্ষীরার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হাসান আলী ভাগ্যের সন্ধানে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। হার না মানা মনোভাব ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন সাফল্যের বিশাল সাম্রাজ্য। জীবন সংগ্রামের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও দ্বীন ইসলাম থেকে বিচ্যুত হননি তিনি।
শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর হাজী হাসান আলীর বাস্তব জীবনের গল্প মালয়েশিয়ায় কর্মরত দেড় মিলিয়ন প্রবাসীর জন্য হতে পারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। আদম ব্যবসার মাধ্যমে নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। আমদানি-রফতানি, কুটিরশিল্প, মৎস্য খামার ও সবজির বাগানসহ বিভিন্ন খাতে তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে আইন গ্রুপ অব কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশী ও মালয়েশীয় কর্মী।
মালয়েশিয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে দেশটির অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় দেশটির রাজার কাছ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য বিরল সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘দাতোক সেরী’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন হাসান আলী। পাশাপাশি পেয়েছেন দুর্লভ নাগরিকত্ব।
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে ইসলাম ও দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিতে সমানতালে একের পর এক গড়ে তুলছেন মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কুয়ালালামপুর থেকে ছুটে যান তিনি।
এলাকার বেকার তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। ভূমিহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের পাশাপাশি গাভি ও ছাগল বিতরণ করছেন। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অসংখ্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি।
প্রবাসে লাখ লাখ বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করা, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের শিক্ষায় প্রতিটি প্রবাসীর জীবন আলোকিত ও সুখী-সুন্দর করতে ইসলামী স্কলার ও শায়খদের অংশগ্রহণে নিয়মিত ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।
কীভাবে ইসলামী জীবনযাপন, কঠোর পরিশ্রম ও সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছেছেন এবং মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন- জানতে চাইলে হাজী হাসান আলী বলেন, ‘শূন্য হাতে কঠোর পরিশ্রম করে যখন সাফল্য পেতে শুরু করেছি, তখন নিজের ভরণপোষণের প্রয়োজন মিটিয়ে বাকি অর্থ দান করতে শুরু করি। এরপর দেখেছি, যা দান করি, তার কয়েকগুণ কোনো না কোনোভাবে লাভজনক হিসেবে আমার কাছে ফিরে আসে। দানেই ধন, মান-ইজ্জত ও সুখ-শান্তি বাড়ে- এ কথা কুরআন-হাদিসের আলোকে পরীক্ষিত।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








