আত্মশুদ্ধির মেহনত ছাড়া সমাজ সংস্কার অসম্ভব : বরুণার পীর
আঞ্জুমান হেফাজতে ইসলামের আজিমুশ্বান ইসলাহী ইজতেমায় বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতি রশীদুর রহমান ফারুকি বর্ণভী : নয়া দিগন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী (বরুণার পীর) বলেছেন, আত্মশুদ্ধির মেহনত ছাড়া সমাজ সংস্কার অসম্ভব। আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই আল্লাহ এবং তার রাসূলের পরিপূর্ণ গোলামি সম্ভব। সাহাবায়ে কেরাম ইসলাম গ্রহণের আগে যেই গোনাহ করতেন, ইসলাম গ্রহণের পর আত্মশুদ্ধির মেহনত করে তারাই হয়ে গেলেন সোনার মানুষ। বর্তমানে সমাজে যত অনাচার, হত্যা, দুর্নীতি ও অরাজকতা রয়েছে আত্মশুদ্ধির মেহনতের মাধ্যমে সব বন্ধ হয়ে যাবে। 
অরাজনৈতিক ইসলাহী সংগঠন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ৮২ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত আজিমুশ্বান ইসলাহী ইজতেমায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, মানুষের প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার প্রাচুর্য কিংবা বাহ্যিক উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ঈমানের দৃঢ়তা, আমলের বিশুদ্ধতা, চরিত্রের সৌন্দর্য ও আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কিন্তু দুনিয়ার ব্যস্ততা ও প্রবৃত্তির টানে অনেক সময় আমরা নিজেদের সংশোধনের কথা ভুলে যাই। ইবাদতে শৈথিল্য, আমল-আখলাকের দুর্বলতা এবং পারস্পরিক অধিকার আদায়ে অবহেলা আমাদের দ্বীনি জীবনে প্রভাব ফেলে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত আত্মসমালোচনা, উপকারী নসিহত গ্রহণ, দ্বীনি পরিবেশের সাহচর্য ও আত্মশুদ্ধির মেহনত। ইসলাহী ইজতেমা মানুষকে সেই পথে ফিরে আসার এবং জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রেরণা জোগায়। 
তিনি বলেন, ১৯৪৪ সালে শায়খুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী রহ. আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে দ্বীনি ও ইসলাহী মেহনতের সূচনা করেছিলেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা অনুসরণ, সুন্নতের অনুশীলন, আত্মশুদ্ধি এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রতি আহ্বান জানানো। তার রেখে যাওয়া এ ইসলাহী ধারার যথাযথ পরিচর্যা ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এ মেহনত কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক নয়; বরং মানুষের জীবনে দ্বীনের শিক্ষা বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তি ও সমাজের সংশোধনে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার নাম। 
তিনি বলেন, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয়। কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানোর এজেন্ডাও এ সংগঠনের নেই। এ সংগঠন দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক আল্লাহর দাওয়াত প্রদান এবং তার আদেশ-নিষেধ পালনে উদ্বুদ্ধ করার কাজেই একনিষ্ঠভাবে কাজ করে থাকে। 
ইসলাহী ইজতেমায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি, অন্তবর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, সিলেট-৫ আসনের এমপি মুফতি আবুল হাসান, আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, আওলাদে রাসূল সা: সাইয়্যিদ ফয়সাল নাদীম, খেলাফত মজলিস মনোনীত সিলেট-৫ আসনের এমপি মুফতি আবুল হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা আকরাম আলী ফরিদপুর, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী, মুফতি ইমাদুদ্দীন ফরিদাবাদ, হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, মুফতি সাইফুল ইসলাম ফারুকী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, আঞ্জুমানের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী, মুফতি ওয়াজেদ আলী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী।