
বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
বঙ্গোপসাগরে ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশে থাকবে না। তবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ঘূর্ণিঝড় অর্ণব আজ বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত বেলা ৩টার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নম্বর-১২ -তে বলা হয়েছে, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় (১৬.২ক্ক উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৩.৬ক্ক পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
সমুদ্র বন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্কসঙ্কেত
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে- অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে।
নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্কসঙ্কেত
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে আজ বুধবার রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের উপর দিয়ে দক্ষিণ/ দক্ষিণ- পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ এস এম কামরুল হাসান নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব বাংলাদেশে আসবে না, এটা অন্ধ্র উপকূলে যাবে। জলোচ্ছ্বাস, বাতাস, বৃষ্টিপাত কোনোটিরই সম্ভাবনা নেই। তবে স্থলভাগ অতিক্রমের পর আবার পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে অগ্রসর হওয়ার সময় স্থল নিম্নচাপে রূপ নেয়ার পর কিছুটা প্রভাব বাংলাদেশে আসবে। এর প্রভাবে কোনো কোনো স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি জানান।
ভারতীয় গণমাধ্যম যা বলছে
এদিকে আনন্দবাজারসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি এরই মধ্যে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এর গতিপথ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে। ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার আশঙ্কা কম থাকলেও রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত মেদিনীপুরের উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র দিঘা, তাজপুর, শঙ্করপুর ও মন্দারমণিতে সমুদ্রে নেমে গোসল করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব সমুদ্রসৈকতে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলোকে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








