
নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায় কার্যকর, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সঙ্কট সমাধানের দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লং মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঞ্চালনায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মামুনুল হক।
তিনি জানান, গণভোটের রায় কার্যকরসহ জনগণের বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এর আগে চট্টগ্রাম ও রংপুর অভিমুখে দু’টি সফল লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর তৃতীয় লং মার্চ পালিত হবে। ওই দিন সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর লং মার্চটি খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, তেল, গ্যাস, সার ও বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমন এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান জোটের নেতারা।
সরকারকে উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, আমরা সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি, কোনো তামাশা করতে নয়। হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের ফাঁদে পা দেবো না। ১১ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, আধিপত্যবাদ মোকাবেলা এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার এই আন্দোলন সামনের দিনে আরো বেগবান হবে।
লং মার্চে সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগের দু’টি লং মার্চের মতো এবারো ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা থাকবে বলে তারা আশাবাদী। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি পালনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। কোনো পক্ষ থেকে লং মার্চে বাধা দেয়ার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারের এমন ভূমিকা কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা না পালন করলে জোট চুপ করে বসে থাকবে না এবং ভোটাধিকার রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিচারবহির্ভূত ক্রসফায়ারের মতো বিষয় নিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তির এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আতঙ্কজনক। এতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তারা শঙ্কিত বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে এমন ব্যক্তিদের সফরসঙ্গী করা হয়েছে, যাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব বা প্রটোকলের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গুরুত্বপূর্ণ সফরকে বিনোদনমূলক সফরে পরিণত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি সরকারকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার বিরোধী দলকে কতটা সম্পৃক্ত করবে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে কতটা আন্তরিক হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অধিবেশনের আগে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে আবারো বৈঠক করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লং মার্চ যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রশাসন যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়। গোপালগঞ্জে ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক বিপুল জনগোষ্ঠী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সন্ত্রাস বা দুরভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা চালানো হলে তা রাজপথেই মোকাবেলা করা হবে। অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর সম্পূর্ণ দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








