শালিখায় ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

নয়া দিগন্ত ডেস্ক
রাজবাড়ীতে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। মাগুরার শালিখায় জমি নিয়ে বিরোধে বড় ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন ছোট ভাই।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ী শহরের প্রাণকেন্দ্র পান্না চত্বরসংলগ্ন পৌর ইউ মার্কেটের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে আমির হোসেন লিটন নামে এক ব্যবসায়ী নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। 
মঙ্গলবার  দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ লিটনকে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লিটন রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বৃচাত্রা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বানিবহ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন বলেন, ‘অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে।’
লিটন জানান, রাজবাড়ী আদালতে একটি মামলায় হাজিরা শেষে সঙ্গী হাসুকে নিয়ে রিকশায় করে শহরের কাপড়ের বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পান্না চত্বর পার হয়ে পৌর ইউ মার্কেটের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি অটোরিকশা তাদের রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় অটোরিকশার ভেতর থেকে তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
এর মধ্যে একটি গুলি লিটনের ডান হাতে লাগে। বাকি দু’টি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এক্স-রে করে দেখা গেছে, গুলিটি লিটনের হাতের মাংসের মধ্যে আটকে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
শালিখা (মাগুরা) সংবাদ দাতা জানান, মাগুরার শালিখায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই খুন হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১০টার দিকে উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের নাঘোসা গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ গাজী (৪৫) কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। অভিযুক্ত বড় ভাই সিদ্দিক গাজী (৫০)। তারা ওই গ্রামের মৃত মোসলেম গাজীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিজমা ভাগাভাগি নিয়ে মৃত মোসলেম গাজীর চার ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে সিদ্দিক গাজী ও মাসুদ গাজীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই সিদ্দিকের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই ছোট ভাই মাসুদ গাজীর মৃত্যু  হয়।
খবর পেয়ে শালিখা থানা-পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে নিখোঁজের পর আজিম (৩০) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
সোমবার রাতে উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষ্মীমোড়া গ্রামের ‘বড় পুকুর’ নামক স্থানের পুকুরের ঝোপ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
সে ওই গ্রামের আলী আজগর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আজিমের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি মৃত হাসেম মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৪ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আজিম। ওই দিন ভোরে রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই আজিমের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সোমবার রাতে রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় দুর্গন্ধ পান তাঁরা। পরে বাড়ির পাশের বড় পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে আজিমের লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুরের ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে বিজয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চন্দ্র সরকার জানান, জেলা সদর হাসপাতাল ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। সে প্রাথমিকভাবে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Advertisement