ইশরাকের হানা দেয়া সেই মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলো পুলিশ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো ইশরাক হোসেনের হানা দেয়া সে ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিটি করপোরেশনের শক্তিশালী হুইল লোডার দিয়ে ছোট ছোট কুঁড়েঘর ও ঘরের মতো গড়ে তোলা সব অবৈধ কাঠামো এক এক করে ভেঙে ফেলা হয় । 
পুলিশ জানায়, রেললাইনের দু’পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব আস্তানা ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে এলাকাটি দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করা এবং রাস্তা পরিষ্কার করে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘœ চলাচলের উপযোগী করে তোলা।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, ঘুন্টিঘর এলাকার রাস্তাঘাট পরিষ্কার করে গাড়ি চলাচলের যোগ্য করা হচ্ছে। রেললাইনের পাশে যে মাদকের আড্ডা ছিল, ওইটা উচ্ছেদ করা হয়। একদম নিট অ্যান্ড ক্লিন করে সবসময় গাড়ি মুভমেন্ট করবে। উচ্ছেদ অভিযানে সিটি করপোরেশনের ভারী যন্ত্রপাতি ও পুলিশের পাশাপাশি সাবেক কাউন্সিলর এবং স্থানীয় অধিবাসীরাও স্বতঃর্র্স্ফূভাবে অংশ নিয়েছেন। এলাকাটি মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দারা এ অভিযানে সরাসরি সহযোগিতা করছেন বলে জানান ওসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুদিন পর সেখানে আবারো মাদকসেবী ও কারবারিদের উপস্থিতি দেখা যেত। কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শককে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন ও মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ স্থানগুলোতে বড় আকারের যৌথ অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে অন্তত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৭ অক্টোবর এ ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে নিজের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনার জন্ম দেন ইশরাক হোসেন। পরবর্তীতে বিতর্কের মুখে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। লাগাতার অভিযানের পর অবশেষে প্রশাসনিক উদ্যোগে ঘুন্টিঘরের এ অবৈধ আস্তানাগুলো স্থায়ীভাবে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো।