
নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর পর্যটন ও টেকসই গন্তব্যের ধারণাকে সামনে রেখে কাল থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ)-২০২৬। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে ১৪তম বারের মতো এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
গতকাল রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান টোয়াবের পরিচালক (ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার) আবুল বাসেত বাবু।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলাটি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে ২০টির বেশি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধিরা ও সংস্থা অংশ নেবে। মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক, ২৫০ জনের বেশি সম্ভাবনাময় ক্রেতা এবং আড়াই হাজারের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী মেলা পরিদর্শন করবেন বলে আশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স মাত্র দু’টি উড়োজাহাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ২৫টি উড়োজাহাজ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বহরে আরো ২১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। মেলা উপলক্ষে টিকিটে ছাড় দেয়া হবে।
টোয়াবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ জানান, তিন দিনের এই মেলায় থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ বি-টু-বি সেশন, গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া দর্শনার্থীরা এক ছাদের নিচে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ বিশেষ মূল্যছাড়ে নিতে পারবেন। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরো সমৃদ্ধ করা এবং ১৪তম এই মেলাকে সফল করতে প্রধান অতিথি থাকবেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বন ও পরিবেশ এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করার চেষ্টা করছি। এ বছর সরকারের বিশেষ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী বিষয়গুলো অত্যন্ত আগ্রহের সাথে দেখেছেন। ইতোমধ্যে গতকাল সেন্টমার্টিনের বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি আশা করছি, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে সুন্দরবন নিয়ে আমাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোও দূর হয়ে যাবে।
এ ছাড়া মেলার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই। এ ছাড়া এয়ারলাইনস পার্টনার হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট যুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বানি নায়ের, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের (বিসিএফসিসি) সেলস বিভাগের প্রধান রহমত আলী, টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও প্রধান ফেয়ার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান, সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ সাফাত উদ্দিন আহমেদ তমাল, পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








