
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দৈনিক আমার দেশের প্রেস লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ এবং সড়কে অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত রোববার রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের লাভ রোড এলাকায় আমার দেশ পাবলিকেশনের প্রধান ফটক লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে আমার দেশের ছাপাখানার একজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। একই সময়ে ঘটনাস্থলের কিছুটা সামনে আরেকটি অবিস্ফোরিত বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় আমার দেশ কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
সোমবার ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, সহসভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এবং কোষাধ্যক্ষ ও ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানান।
তারা ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিবৃতিতে এনইসি নেতারা বলেন, সংবাদপত্রের কার্যালয় ও ছাপাখানা লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত হানার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তারা মনে করেন।
তারা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১০ সালে আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল। একই সময়ে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তার মোড়ে হাতুড়ি দিয়ে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
এনইসি নেতারা বলেন, সংবাদমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তারা আশা করেন।
সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রেস লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ এবং রাস্তায় অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে।
গতকাল বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজে সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সংবাদপত্রের অফিস ও প্রেসে বোমা হামলা স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত বৈ কিছু নয়। ফ্যাসিবাদী জমানায় বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের শেষ রক্ষা হয়নি। আগামীতেও সাংবাদিকরা রাজপথে থেকে এর মোকাবেলা করবেন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিবৃতিতে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আশা করব, ফ্যাসিস্ট আমলের মতো বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
জামায়াতের নিন্দা
দৈনিক আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় আহত দু’জনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন ও সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হয়েছেন। তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয় ও সংবাদপত্রের ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেস-সহ দেশের সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








