
কক্সবাজার অফিস
কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় শুরু হয়েছে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান। এরই অংশ হিসেবে উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত বে হিলটন বিচ রিসোর্ট উচ্ছেদ করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কউক।
গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে এ অভিযান। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগমের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু আব্দুল্লাহসহ কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষের দাবি, ইনানী সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনার বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
গতকাল যৌথ অভিযানের প্রথম দিনে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় চারতলার বে হিলটন বিচ রিসোর্টটি। এটি প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল বলে দাবি ভবনমালিকের। কক্সবাজার শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার ইনানী সৈকত এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে অভিযান চালানো হয়। কউকের নেতৃত্বে অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর ও আনসার বাহিনী অংশ নেয়।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের ইনানীর নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে তারকা হোটেল রয়েল টিউলিপ। উত্তর পাশে রয়েছে আরেক তারকা হোটেলে বে ওয়াচ। দুই তারকা হোটেলের মধ্যভাগে অবস্থিত চারতলা রিসোর্ট ভবনটি।
বেলা ১১টার দিকে রিসোর্ট ভবনটির সামনে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য খননযন্ত্র (এক্সক্যাভেটর) নিয়ে আসা হয়। উপস্থিত হন শ্রমিকেরাও। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা সেখানে ভিড় করতে শুরু করেন। দুপুরে ভবনের নিচে এবং দুই পাশে থাকা ১০-১২টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর চারতলা ভবনের কাচের গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। তারপর মূল ভবনের পিলার ভাঙার কাজ শুরু হয়।
অভিযান চলাকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে নির্মিত চারতলা রিসোর্ট ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিকপক্ষকে চারবার নোটিশ দেয়া হয়েছিল। তবে নোটিশের পর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই রিসোর্ট ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
রিসোর্ট ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিয়ে ভবনটির নির্মাণ শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনের নিচতলায় কয়েকটি দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার জন্য বেশ কয়েকটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মিত ভবনটি কিছুদিনের মধ্যে উদ্বোধনের কথা। তবে এর আগেই এটি গুঁড়িয়ে দেয়া হলো। নোটিশের জবাব না দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শহিদুল হক বলেন, ‘চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের বিপরীতে কাগজপত্রও আছে, কিন্তু কেউ তা আমলে নিচ্ছে না।’
কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভে ২০০টির মতো রিসোর্ট-কটেজ-রেস্তোরাঁ রয়েছে। বেশির ভাগ কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। কোনোটিরই অনুমোদন নেই। সম্প্রতি এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কউকের পক্ষ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বারবার নোটিশ করার পরও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেয়ায় যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভে অবৈধ কোনো স্থাপনা রাখতে দেয়া হবে না।
জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ৮০ কিলোমিটারে মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট-কটেজসহ স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। যে কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট-কটেজ-রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, কক্সবাজারে তাদের সমিতিতে সদস্যসংখ্যা ১৮৭। সমিতির তালিকাভুক্ত প্রায়ই হোটেল-গেস্টহাউজের অনুমোদন রয়েছে। বাকিগুলোর কাগজপত্র আছে কি না, তার জানা নেই।
টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটন এলাকায় স্থাপনার অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অভিযান শুরু হওয়ায় অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা আরো জোরদার হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








